মহেশখালী (কক্সবাজার)মহেশখালী পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণঅবস্থায় পড়ে থাকা কোস্টাল সেন্টার ভবনটি অপসারণ করে সেখানে নান্দনিক পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। একই সঙ্গে পৌরসভার স্থায়ী ভবনে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে এ পরিদর্শনে। স্থানীয় বিএনপি ও পৌরসভা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত পুরোনো কোস্টাল সেন্টার ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে থাকায় এটি এখন জননিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনার দিক থেকে নতুন করে ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি অব্যবহৃত বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে জায়গাটি পড়ে থাকার পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি পৌর এলাকার সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পেতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে কোস্টাল সেন্টারের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাব্য জায়গা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এমপি ফরিদ। পরিদর্শনকালে জরাজীর্ণ ভবন অপসারণ, জায়গাটির যথাযথ ব্যবহার এবং সেখানে একটি নান্দনিক পার্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। একটি জরাজীর্ণ ভবন থেকে নাগরিক সুবিধার সম্ভাবনা, মহেশখালী একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় জনপদ। পৌর এলাকার জনসংখ্যা ও নাগরিক কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উন্মুক্ত স্থান, বিনোদনকেন্দ্র ও পরিকল্পিত নাগরিক অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। কিন্তু অপরিকল্পিত ব্যবহার কিংবা দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক জায়গা নাগরিক সুবিধায় রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।কোস্টাল সেন্টারের জায়গায় পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প হবে না; বরং শিশু, নারী, বয়স্ক ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি উন্মুক্ত জনপরিসর তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
স্থায়ী ভবনে ফিরবে পৌরসভার কার্যক্রম? পরিদর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে মহেশখালী পৌরসভার স্থায়ী ভবনে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি। পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট ও স্থায়ী ভবনে পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালিত হলে নাগরিকদের সেবা গ্রহণ আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে,পৌরসভার স্থায়ী কার্যালয়কে কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব করেতুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ এবং নাগরিকদের অপেক্ষা ও সেবা গ্রহণের উপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু ভবনে কার্যক্রম স্থানান্তর নয়, বরং পৌরসভার সব নাগরিকসেবা একই কাঠামোর আওতায় এনে সেবার মান উন্নয়ন করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। কোস্টাল সেন্টারের জরাজীর্ণ ভবন অপসারণ করে পার্ক নির্মাণের উদ্যোগও সেই বৃহত্তর নগর পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে কারিগরি সমীক্ষা, ভূমির মালিকানা যাচাই, স্থাপনা অপসারণের আইনগত প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ জরুরি।
উপকূলীয় এলাকার পার্ক নির্মাণে শুধু সৌন্দর্য নয়, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি, পানি নিষ্কাশন এবং পরিবেশগত ভারসাম্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি পার্ক নির্মাণের পর সেটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরেজমিন পরিদর্শনের পর উদ্যোগটি যেন শুধু ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে বাস্তবসম্মত নকশা ও প্রকল্প গ্রহণ করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মহেশখালী পৌরসভার স্থায়ী ভবনে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে নাগরিকসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে এমন প্রত্যাশাও রয়েছে স্থানীয়দের।