শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬

এ স এ ম আ জা দ হো সে ন

  • নীরবতারও ভাষা আছে
  • ২০২৬-০৯-২৪ ১৫:৩০:৫৫

আজকাল শব্দেরা
আমার কাছে আসে খুব আস্তে,
যেন অসুস্থ ঘরের দরজায়
কেউ নিঃশব্দে রেখে যায়
এক গ্লাস জল।

আমি তাদের দেখি,
ছুঁতে পারি না।

কলমটা এখনো টেবিলের ওপর,
খাতাটাও খোলা-
শুধু আঙুলের ভেতর
সেই আগের নদী নেই,
যে নদী প্রতিদিন
অসংখ্য শব্দ বয়ে আনত।

তবু আমি লিখি।

কখনো একটি অসমাপ্ত বাক্য,
কখনো জানালার পাশে
পড়ে থাকা বিকেলের আলো,
কখনো শুধু একটি বিন্দু-
যার ভেতর লুকিয়ে থাকে
অনেক না-বলা কথা।

এই যে তোমরা
আমার শব্দের উঠোনে এসে
নিজেদের একটু সময় রেখে যাও,
আমি তা দেখতে পাই।

সব উত্তর দেওয়া হয় না,
তবু কোনো ভালোবাসাই
অদেখা থাকে না।

কিছু মানুষ ভাবে,
চুপ থাকা মানেই
দূরে সরে যাওয়া।

অথচ কখনো কখনো
মানুষ সবচেয়ে কাছে থাকে
তার নীরবতার ভেতরেই।

আজ তাই
তোমাদের প্রতিটি মন্তব্য
আমি উত্তর দিয়ে নয়,
মনের ভেতর রেখে দিচ্ছি।

যেমন শুকনো পাতার নিচে
বীজ লুকিয়ে থাকে-
বাইরে থেকে
কিছুই দেখা যায় না,
তবু ভেতরে ভেতরে
একটি ঋতু তৈরি হতে থাকে।

আমারও হয়তো
এখন সেই ঋতু চলছে।

কিছুটা ক্লান্তি,
কিছুটা বিরতি,
কিছুটা নিজের কাছে
ফিরে যাওয়ার সময়।

তাই যদি কোনোদিন
আমার নামের পাশে
নীরবতা দেখতে পাও,
ভেবো না-
আমি তোমাদের ভুলে গেছি।

শুধু শব্দের দরজা
আজ একটু বন্ধ রেখেছি,
যাতে ভেতরের মানুষটাকে
আবার গোছাতে পারি।

কারণ সব ফিরে আসা
শব্দ দিয়ে হয় না-
কিছু ফিরে আসা
নিঃশব্দে ঘটে,
যেমন দীর্ঘ খরার পর
মাটির গভীরে
অদৃশ্যভাবে জল জমে।

হয়তো আমিও এখন
সেই গভীরতার দিকে যাচ্ছি-
যেখানে শব্দের আগে
অনুভূতি জন্ম নেয়,
কবিতার আগে
মানুষ নিজেকে পড়ে নেয়।

তাই আমাকে
এই সাময়িক নীরবতার মধ্যে
একটু থাকতে দাও।

যে মানুষটি প্রতিদিন
অন্যের মনের কথা লিখে গেছে,
আজ সে একটু
নিজের ভেতরের ভাঙাচোরা
অক্ষরগুলো পড়ুক।

যদি ফিরি,
শুধু আগের মতো লিখতে ফিরব না-
ফিরব কিছু হারানোর ভার নিয়ে,
কিছু না-বলা কথার আলো নিয়ে,
আর সেইসব মানুষের
নিঃশব্দ ভালোবাসা নিয়ে,
যারা আমার অনুপস্থিতিতেও
আমার শব্দের পাশে বসে থেকেছে।

তখন হয়তো বুঝব-
শব্দ আসলে আমাদের নয়,
আমরা কেবল
তার ক্ষণিক আশ্রয়।

মানুষ চলে যায়,
দিন ফুরিয়ে যায়,
শরীর একদিন ক্লান্ত হয়ে থেমে যায়-
কিন্তু সত্যিকারের অনুভূতি
কোনো দরজা মানে না।

সে থেকে যায়
কারও মনে,
কোনো অসমাপ্ত কবিতায়,
কোনো নিঃসঙ্গ রাতে
হঠাৎ জ্বলে ওঠা স্মৃতিতে।

আর যদি কোনোদিন
আমার লেখা আর না-ও থাকে,
তবু তোমাদের দেওয়া
একটি ভালোবাসার শব্দ
হয়তো কোথাও থেকে যাবে-

আমার হয়ে নয়,
একজন মানুষের
আরেকজন মানুষের প্রতি
বিশ্বাসের শেষ আলো হয়ে।

সেই আলোটুকুই
আজ আমার কাছে যথেষ্ট।

আমি তাই নীরব।

শেষ হয়ে যাইনি-
শুধু শব্দের গভীরে
একটু ডুবে আছি।

হয়তো যখন উঠব,
আমার হাতে কোনো কবিতা থাকবে না,
থাকবে শুধু
আরও সত্য একজন মানুষ।

আর সেই মানুষটির
প্রথম শব্দ হবে-

কৃতজ্ঞতা।


এ জাতীয় আরো খবর