পবিত্র কোরআন শুধু তিলাওয়াতের গ্রন্থ নয়,এটি মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। বয়স কোনো বাধা নয়,আল্লাহর কালাম শেখার আগ্রহই একজন মানুষকে তাঁর নৈকট্যের পথে এগিয়ে নেয়। এই বিশ্বাসকে ধারণ করেই রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার আল-মুজাহিদ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হলো তাহসীন পদ্ধতিতে যুবক ও বয়স্কদের জন্য কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও প্রথম সবক প্রদান অনুষ্ঠান।
গতকাল বুধবার বাদ এশা মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এলাকার অর্ধশতাধিক যুবক ও বয়স্ক ব্যক্তি উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পবিত্র কোরআনের প্রথম সবক গ্রহণ করেন। উপস্থিত মুসল্লিদের আন্তরিক অংশগ্রহণে পুরো পরিবেশ পরিণত হয় এক অনন্য ধর্মীয় আবহে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ও সবক প্রদানকারী আল্লামা মুফতী মুস্তাকুন্নবী কাসেমী দা.বা. বলেন,পবিত্র কোরআন শিক্ষা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কোরআনকে বুঝে,শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করে এবং জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা অর্জন সম্ভব।
তিনি কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে তুলে ধরেন,আল্লাহ তাআলা কোরআনকে মানুষের জন্য হেদায়াত, রহমত ও মুক্তির পথ হিসেবে নাজিল করেছেন। তাই জীবনের যে বয়সেই হোক,কোরআন শিক্ষা শুরু করতে লজ্জা বা সংকোচের কোনো সুযোগ নেই।
আলোচনায় তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শের পাশাপাশি খোলাফায়ে রাশেদীনের জীবন থেকেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম কোরআন শেখা ও শেখানোর মাধ্যমে নিজেদের জীবন আলোকিত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই পরিণত বয়সে কোরআনের গভীর শিক্ষা গ্রহণ করে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সেই আদর্শ অনুসরণ করেই আজকের সমাজে কোরআনের শিক্ষা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন,কোরআনের সঙ্গে যার সম্পর্ক যত দৃঢ় হবে, তার চরিত্র, নৈতিকতা ও সমাজজীবন তত সুন্দর হবে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি হলো কোরআনের শিক্ষা।
মূল্যবান আলোচনা করেন ক্বারী মাওলানা আবুল কাসেম চাঁদপুরী,চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক 'তাহসীন পদ্ধতিতে যুবক ও বয়স্কদের জন্য কোরআন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠান পরিচালনা ও শুভকামনা ব্যক্ত করেন আল-মুজাহিদ জামে মসজিদের খতিব মুফতী যোবায়ের আহমদ চাঁদপুরী।সভাপতিত্ব করেন মসজিদ কমিটির সভাপতি জনাব শরীফ উদ্দিন।
আয়োজকরা জানান,এই শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে যুবক ও বয়স্কদের শুদ্ধ কোরআন তিলাওয়াত শেখানোর পাশাপাশি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, নৈতিকতা এবং আখিরাতমুখী জীবন গঠনের ওপরও নিয়মিত পাঠদান করা হবে। এলাকার আরও মানুষকে এই মহতী উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, দেশ-জাতির কল্যাণ এবং অংশগ্রহণকারীদের দ্বীনি জীবনে সফলতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।