শনিবার, জুলাই ১১, ২০২৬

দুর্যোগে শুধু ত্রাণ নয়,চিকিৎসাসেবাও মানুষের দোরগোড়ায়: মহেশখালীতে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৭-১০ ২৩:১৬:২৯

 মহেশখালী (কক্সবাজার)
চলমান বৈরী আবহাওয়া টানা বৃষ্টি পাতে জলাবদ্ধতা এবং দুর্যোগের কারণে মহেশখালী  উপজেলা বিভিন্ন  নিম্নাঞ্চলের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।   অনেক   এলাকায়   ঘরবাড়ি, সড়ক  ও বসতভিটা   পানিতে   তলিয়ে    যাওয়ায়   স্বাভাবিক জীবনযাত্রা  ব্যাহত  হয়েছে।  নিরাপদ  বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যাভাব  এবং  পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  এমন পরিস্থিতিতে শুধু খাদ্য সহায়তা নয়,  চিকিৎসাসেবাও   দুর্গত   মানুষের  দোরগোড়ায় পৌঁছে  দিয়ে  ব্যতিক্রমী  মানবিক   উদ্যোগ   নিয়েছে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন।
দুর্যোগ  মোকাবিলায়   উপজেলা   নির্বাহী   অফিসার ইমরান মাহমুদ ডালিমের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা  টানা   কয়েকদিন  ধরে  মাঠপর্যায়ে কাজ চালিয়ে  যাচ্ছেন।   সর্বশেষ    কার্যক্রমে    মাতারবাড়ি ইউনিয়নের   দক্ষিণ  মগডেইল  বিলপাড়া, ষাইটপাড়া, নয়াপাড়া, পশ্চিম  তিতা মাঝিরপাড়া (বিলপাড়া) এবং রাজঘাট বিলপাড়া এলাকার পানিবন্দী পরিবারগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।
পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত  পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া  হয়   এবং  তাদের  হাতে ২০০ প্যাকেট  খাদ্য সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; প্রতিটি পরিবারের বাস্তব অবস্থা,খাদ্যসংকট,শিশু ও প্রবীণদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং  জরুরি  প্রয়োজন সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেন।
দুর্যোগের   সময়ে  স্বাস্থ্যঝুঁকিকে  সর্বোচ্চ  গুরুত্ব দিয়ে নির্বাহী  অফিসার  ইমরান  মাহমুদ  ডালিম  উপজেলা স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্সের  মেডিকেল  অফিসার  ডা. মুহাম্মদ আরমান কাদেরকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গত এলাকায় সরাসরি চিকিৎসাসেবা   কার্যক্রম   পরিচালনা   করেন।  অসুস্থ ব্যক্তি,শিশু,নারী,প্রবীণ এবং দীর্ঘদিনের রোগে আক্রান্ত    মানুষদের  স্বাস্থ্য  পরীক্ষা  করা হয়  এবং  প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ দেওয়া হয়।
জলাবদ্ধতা-পরবর্তী  রোগবালাই সম্পর্কে  সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়।
স্থানীয়  বাসিন্দারা  জানান, দুর্যোগের সময় চিকিৎসা কেন্দ্রে  যাওয়া  অনেকের  পক্ষেই সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসককে গ্রামের ভেতরে নিয়ে গিয়ে মানুষের  দোরগোড়ায়   স্বাস্থ্যসেবা   পৌঁছে   দেওয়ার উদ্যোগ তাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ  করে  শিশু, বয়স্ক  ও চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিরা এই সেবা থেকে সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
পরিদর্শনের  সময়  নির্বাহী অফিসার ইমরান মাহমুদ ডালিম  ক্ষতিগ্রস্ত  পরিবারগুলোর  সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, দুর্যোগকালীন সময়ে প্রশাসনের সব কার্যক্রম মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষাকে কেন্দ্র   করেই   পরিচালিত  হচ্ছে। কোনো  ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় শুধু খাদ্য সহায়তা  নয়,  চিকিৎসাসেবা,  স্বাস্থ্যসচেতনতা  এবং ক্ষতিগ্রস্ত  মানুষের  প্রকৃত  চাহিদা  মূল্যায়নের  মতো সমন্বিত উদ্যোগই দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।  মহেশখালী  উপজেলা  প্রশাসনের এই কার্যক্রম সেই বাস্তবতারই একটি ইতিবাচক উদাহরণ।
স্থানীয়  প্রশাসন  জানিয়েছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া  পর্যন্ত  ঝুঁকিপূর্ণ  ও  পানিবন্দী এলাকাগুলোতে নিয়মিত   পর্যবেক্ষণ    অব্যাহত    থাকবে।  প্রয়োজন অনুযায়ী  খাদ্য সহায়তা,  চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি  সহায়তা  পর্যায়ক্রমে  আরও বিস্তৃত করা হবে, যাতে   দুর্যোগে  ক্ষতিগ্রস্ত   কোনো  মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা  থেকে  বঞ্চিত  না  হন।  দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে  প্রশাসনের  এমন মানবিক ও মাঠমুখী উদ্যোগ স্থানীয়  মানুষের   মধ্যে  আস্থা  ও  সাহস   জোগাচ্ছে। সংকটের মুহূর্তে সরকারি সেবাকে মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার  এই  কার্যক্রম  দুর্যোগ   মোকাবিলায়  একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর