মহেশখালী (কক্সবাজার)
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড়ি দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। অনেক এলাকায় রান্নাবান্না, বিশুদ্ধ পানির সংকট, যোগাযোগ ব্যাহত হওয়াসহ জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতি গ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা ও জরুরি তৎপরতা জোরদার করেছে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন।
০৮ জুলাই (বুধবার) দিনব্যাপী পরিচালিত অভিযানে উপজেলার মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নের জলাবদ্ধতাকবলিত বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানিবন্দী পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং খাদ্যসংকটে থাকা পরিবারগুলোর হাতে জরুরি খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করা হয়। সেখানে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা, জরুরি ওষুধের মজুত, চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। বর্ষা মৌসুমে ডায়রিয়া, জ্বর ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে কালারমারছড়া ইউনিয়নের ইউনুছখালী এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে একটি পরিবারের বসতবাড়ির উঠানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে
নগদ অর্থ ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত উপস্থিতি ও মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত মহেশখালী পৌরসভার খালেদ বিন ওয়ালিদ মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে নির্মিত একটি বাঁধের কারণে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা এবং জাগিরাঘোনা এলাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাঁধটি কেটে দেওয়া হয়। এর ফলে জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে যেতে শুরু করে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক সুফল পাওয়া যায়। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
দিনব্যাপী এসব কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান মাহমুদ ডালিম। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু জাফর মজুমদার এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাশ।
তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, নগদ সহায়তা এবং অন্যান্য ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকবে।
পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তা মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করলেও মহেশখালীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল-নালা পুনঃখনন, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ সচল রাখা এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ বন্ধে দীর্ঘ-
মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
দুর্যোগের এই সময়ে উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের এই তৎপরতা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীরা।