মহেশখালী (কক্সবাজার)
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের বাস্তবতায় কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে হতদরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে সরকার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
খাদ্য সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে চাল তুলে দেন কক্সবাজার-২, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ইমরান মাহমুদ ডালিম,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হতদরিদ্র, শ্রমজীবী, জেলে, বিধবা ও নিম্নআয়ের মানুষ নির্ধারিত বিতরণ কেন্দ্রে জড়ো হতে থাকেন। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খল পরিবেশে তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের হাতে ১০ কেজি করে চাল তুলে দেওয়া হয়। নারী, বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। যাতে কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ না ওঠে, সে জন্য প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা হয়। উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়ছে জীবনযাত্রার চাপ মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এখানকার মানুষের বড় একটি অংশ দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল। বৈরী আবহাওয়া, মাছ ধরায় অনিশ্চয়তা,মৌসুমি বেকারত্ব এবং দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাপন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও জেলে পরিবারের অনেকেই খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বাস্তবতায় সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিকে সাধারণ মানুষের জন্য“স্বস্তির বার্তা”হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, নিয়মিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।“দেশের কোনো মানুষ যেন অভুক্ত না থাকে” চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় দেশের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করেন।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের কোনো মানুষ যেন অভুক্ত না থাকে। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে খাদ্য সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
প্রশাসনের নজরদারিতে স্বচ্ছ বিতরণ,খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে প্রশাসনের সরাসরি তদারকি ছিল লক্ষণীয়। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে তালিকা যাচাই-বাছাই এবং বিতরণ কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উপকারভোগীদের মুখে স্বস্তির হাসি,খাদ্য সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগীরা। অনেকেই জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সরকারের দেওয়া খাদ্য সহায়তা তাদের
জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
একাধিক উপকারভোগী বলেন, “কাজ না থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। সরকারের এই চাল পেয়ে অন্তত কয়েকদিন পরিবারের খাবারের চিন্তা কমলো।”
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে উপকার পাচ্ছে লাখো মানুষ সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের ভিজিএফ, ভিজিডি,খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের লাখো পরিবার উপকৃত হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে এসব কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে,প্রশাসনের তদারকি, জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের ফলে সরকারি সহায়তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই সঙ্গে দরিদ্র মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা চলমান খাদ্য সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হবে এবং প্রকৃত দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।