রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত,বিজিবির বাধায় ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৬-২০ ২০:১৯:৫৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার  বিনোদপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের  কাঁটাতারের বেড়াবিহীন চৌকা সীমান্তে  শনিবার(২০জুন) সকালে ২০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা সীমান্তবাসীদের সাথে নিয়ে প্রতিহত করেছে বিজিবি। পরে বিজিবি ও সীমান্তবাসীদের  ব্যাপক বাধার মূখে  এবং বিজিবি-বিএসএফ এর মধ্যে অনুষ্ঠিত কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পর সীমান্তের শূণ্যরেখার ভারতের ভেতরে অবস্থানরত ওই ২০ জনকে মেইন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৭৩/৩ এস পিলারের নিকটবর্তী ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সুখদেবপুর ক্যাম্পের মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরে  ফিরিয়ে  নিয়েছে  বিএসএফ।  শনিবার বিকাল ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
এদিকে  এ ঘটনা নিয়ে সীমান্তে কিছুটা  উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুশইন চেষ্টার সময়  সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের ব্এিসএফ সরে যেতে বললে, বিজিবি সদস্যরা কড়া জবাব দেন, ‘এক পাও সরব না’।  এ সময় বিজিবি প্রথমে পুশইনের চেষ্টাকৃতদের সরিয়ে নিতে বলে। তারপর কথা বলা হবে বলেও জানায়।
স্থানীয় ও  বিজিবি সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ৭টার দিকে ৪শিশু,১১ নারী ও ৫ পুরুষকে চৌকা সীমান্ত দিয়ে  বাংলাদশে ঢোকানেরা চেষ্টা প্রতিহত  করা হয়। পরে  পতাকা বৈঠকে সমঝোতার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
সংশ্লিস্ট  ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ রুহুল আমীন বলেন, পুশইন চেষ্টার খবর জানার পর শত শত গ্রামবাসী সীমান্তে জড়ো হয়। তাঁরা বিজবিকে সাহয্যের পাশাপাশি ঘটনার প্রতিবাদ করতে থাকেন। তবে এক পর্যায়ে বিজিবি  সদস্যরা সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে গ্রামবাসীদের হটিয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলেন। ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক নিজে নিজে বারবার এ ব্যাপারে হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশরাও এ সময় বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসীকে সরিয়ে নিতে বিজিবিকে সাহায্য করেন।
সংশ্লিস্ট ইউপি সদস্য মো. বাদশাহ বলেন, ঘটনার এক পর্যায়ে বিএসএফ-বিজিবি দফায় দফায়  কয়েকগজ দূর থেকে  প্রায় সামনাসমানি মুখোমুখ কড়া অবস্থান নেন।  এসময় বিএসএফ সদস্যরা পুশইনকৃতদের সাথে নিয়ে বিজিবিকে  সীমান্তে কর্তব্যরত অবস্থান থেকে সনে যেতে বললে বিজিবি সদস্যরা  সঙ্গে সঙ্গে  বার বার জবাব দেন, ‘এক পাও সরব না’। প্রথমে পুশইনকৃতদের সরিয় নিতে বলেন বিজিবি সদস্যরা। বিকেলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে বলেও জানান ইউপি সদস্য বাদশাহ।
উল্লেখ্য এর আগে জেলার গোমস্তাপুর সীমান্তে চলতি মাসে তিন দফায় ৪৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় বিএসএফ।


এ জাতীয় আরো খবর