বুধবার, মে ২০, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ বন্দর পথে টানা ১৮ দিন বন্ধের পর পূণরায় ভারতীয় পাথর আমদানী শুরু

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৫-১৯ ১৭:০১:৫৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে টানা ১৮দিন বন্ধের পর ভারত থেকে পূণরায় পাথর আমদানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯মে) দুপুর ১২টা থেকে পাথরের ট্রাকগুলো বন্দরে প্রবেশ শুরু করে।  বন্দর সংশ্লিস্ট সূত্রগুলো জানায়,দেশে পাথর আমদানির বৃহত্তম এই বন্দর দিয়ে গত ১ মে থেকে আমদানী বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়ে দেশের প্রায় সকল মেগা উন্নয়ন প্রকল্প সহ সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে। দেশে বাজারে পাথরের দাম  অনেক বেড়ে যায়। বেকার হয়ে পড়েন বন্দরে কর্মরত  হাজার হাজার পাথর সংশ্লিস্ট শ্রমিক কর্মচারী। বসে থাকতে হয় পাথর পরিবহনে জড়িত শত শত ট্রাককে। অপরদিকে সরকার বঞ্চিত হয় কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে। সোনামসজিদের বিপরীতে ভারতের মোহদিপুর বন্দর কাস্টমস পাথরের আ্যাসেসমেন্ট মূল্য বাড়ালে এ সমস্যা শুরু হয়। এখন আমদানী পূণরায় শুরু হওয়্য়া সংম্লিষ্টরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে সকলেই  সমস্যার পূর্ণ ও স্থায়ী সমাধান চান।
সোনামসজিদ আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রুপ সাধারণ সম্পাদক এবং পাথর আমদানীকার আরিফ উদ্দিন ইতি বলেন, নির্মাণ কাজের জন্য বাংলাদেশে ভারত থেকে বিভিন্ন সাইজের যে  কালো পাথর আমদানী করা হয় তা মূলত: ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের পাকুর এলাকা থেকে আসে। ২০১৪ সালে কলকাতায় দুদেশের সরকারি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, পশ্চিমবঙ্গের সকল বন্দর দিয়ে পাথর টন প্রতি ১৩ ডলার মূল্যে  বাংলাদেশে রপ্তানী হবে। এতদিন সেভাবেই চলছিল। কিন্তু ১ মে থেকে আচমকা মোহদিপুর বন্দর পথে পাথর রপ্তানী বন্ধ করে দেয় ভারতীয়রা। তাঁদের দাবি, এই পথে ১৫ ডলারে পাথর রপ্তানী করা হবে। এই ট্যারিফের ব্যাপারে আগেও কয়েকবার কথা উঠলেও সেটি নিয়ে আলোচনা  বা সিদ্ধান্ত হয় নি।
এ অবস্থায় রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার  মনোজ কুমারের  সাথে সমস্যা সমাধানের জন্য গত সোমবার(১১মে) আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রুপ  আলোচনা করে। তিনি সমাধানের আশ^াস দেন।  তবে এ এরপরও চালু হয়নি আমদানী। এ অবস্থায় আলোচনা অব্যহত রাখে আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রুপ এবং  ভারতের মহদিপুর এক্সপোটার্স এসোসিয়েশন। এর ফলশ্রুতিতে দুপক্ষ ১৪ ডলারে পাথর অ্যাসেসমেন্ট করার ব্যাপারে একমত হলে মঙ্গলবার থেকে সোনামসজিদে পাথর ঢুকতে শুরু করে।
আরিফ উদ্দিন বলেন,  ১ ডলার বেড়ে ১৪ ডলারে পাথর ঢোকা শুরু হলেও এ ব্যাপারে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় নি। কোন চিঠি করা হয়নি। আমদানীকারকদের এখন প্রধান দাবি, যে এলসিগুলো পূর্বেই ১৩ ডলারে খোলা রয়েছে সেই  পাথর আমদানীর সূযোগ দেয়া হোক। নতুন এলসি ১৪ ডলারে  খোলা হবে।  মঙ্গলবার থেকে কিছু গাড়ি ১৪ ডলারে ঢুকলেও যদি আগের  ১৩ ডলারে এলসির মাল দেয়া না হলে আবারও বন্ধ হতে পারে আমদানী। এ ব্যাপারে রপ্তানীকারকদের সাথে এখনও আলোচনা চলছে। রপ্তানীকারক গ্রুপ সভাপতি প্রসেনজিৎ ঘোষ ও সম্পাদক নিখিল ঘোষ  আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
আরিফ উদ্দিন বলেন, কোন আলোচনা ছাড়াই গত ১২ এপ্রিল মোহদিপুর কাস্টমস সুপার এক পত্রে ভারতীয় রপ্তানীকারক ও সিএন্ডএফদের জানান যে, ১৫ এপ্রিলের পর ১৫ ডলারের নীচে খোলা কোন এলসি গ্রহণযোগ্য হবে না। অথচ এর আগেই বাংলাদেশী বহু ব্যবসায়ী  ১৩ ডলারে এলসি খুলেছেন। এখন সেই এলসিগুলো সংশোধন (এমন্ডেমেন্ট) করে ১৫ ডলার না করলে তা কার্যকর হচ্ছে না।
সোনামসজিদ বন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারী অপরেটর প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেড অপারেশেন ম্যানেজার কামাল খান বলেন, গত ১ মে থেকে  পাথর  আমদানী সম্পূর্ণ বন্ধের পর মঙ্গলবার দুপুর থেকে পূণরায় শুরু হয়েছে । মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত প্রায় ১০০ পাথরের গাড়ী বন্দরে প্রবেশ করেছে। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সর্বশেষ ৩৪০ ট্রাক পাথর আমদানী হয়। গড়ে বন্দরে  দিনে ২ থেকে আড়াইশ ট্রাক পাথর প্রবেশ করে।  এখন থেকে ১৪ ডলারে পাথর আমদানী হবে বলে জানা গেছে বলেও জানান এই বন্দর কর্মকর্তা।


এ জাতীয় আরো খবর