ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৬ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মৃত ব্যক্তিদের নামেও চাল বরাদ্দ, পুরোনো তালিকা ব্যবহার, চালের শ্লিপ পাইকারদের কাছে বিক্রি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৮ মে ২০২৬) সকালে চাল বিতরণের সময় প্রায় এক দশক আগের উপকারভোগীর তালিকা ব্যবহার ও মৃত ব্যক্তিদের নামেও বরাদ্দ দেখিয়ে চাল আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করে কিছু চালের শ্লিপ স্থানীয় পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকরা হেনস্তার শিকার হন। হেনস্তার শিকার সাংবাদিকরা হলেন, দৈনিক একুশে টেলিভিশনের এস এম জসিম, দৈনিক বর্তমান কথার আজাহার রাজা, দৈনিক বাংলা সংবাদের মজাফফর ও আব্দুল মতিন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের উদ্দেশে কটূক্তি করে বলেন, “কত সাংবাদিক দেখলাম, কী ফালাইতে পারে ফালাক।”
পরে স্থানীয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোকজনকে ডেকে এনে সাংবাদিকদের ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই পরিস্থিতিতে এক ধরনের ‘মব’ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন ৬ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভুল্লি থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাংবাদিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্যানেল চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ রয়েছে, ১ শতাংশ বরাদ্দের অর্থে ১২টি টিউবওয়েল স্থাপনের একটি প্রকল্পে নতুন টিউবওয়েল স্থাপন না করে পুরোনো টিউবওয়েলের ছবি ব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সোয়েব আক্তার বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সহায়তা কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসকেও নষ্ট করে। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।