চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের তেররশিয়া পোঁড়াগ্রাম জামে মসজিদ কমিটির ‘গান-বাজনা বাদ্যযন্ত্র মুক্ত সমাজ গঠনের সিদ্ধান্ত’ সম্পর্কিত একটি নোটিশ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ৩৪ জন মসজিদ কমিটি সদস্য ও গ্রামবাসী স্বাক্ষরিত নোটিশটি কিছুদিন পূর্বের হলেও গত ১ সপ্তাহ থেকে ১০ দিন পূর্বে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর এ সংক্রান্ত মসজিদ কমিটির কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বিষয়টি। এ প্রেক্ষিতে পুলিশ কমিটির সাথে কথা বললে কমিটি বিষয়টি ‘ঠিক’ হয় নি বলে দূ:খ প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে এ ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না মর্মেও তাঁরা অঙ্গীকার করেন। পুলিশ নোটিশ সম্বলিত ব্যাানার পোষ্টার জব্দ করে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, এতদ্বারা পোড়াগ্রামবাসীর পক্ষ হতে জানানো যাচ্ছে যে,আমরা আমাদের গ্রামের পরিবেশ,যুব সমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার জন্য গ্রামের গণসম্মতির ভিত্তিতে শিরক,বিদ-আত,গান-বাজনা ও অপসংস্কৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ও ক্ষতিকর হওয়ায় গ্রামের সামাজিক কল্যাণের স্বার্থে আজ থেকে আমাদের গ্রামে প্রকাশ্যে উচ্চ শব্দে বাদ্যযন্ত্র বা গান-বাজনা সম্পূর্ণরুপে হারাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। এরপরও যারা বাদ্যযন্ত্র বাজাবে তাদের বিরুদ্ধে ‘আইনগত’ ব্যবস্থা নেয়া হবে। নোটিশটিতে কোন তারিখ উল্লেখ নাই এবং কোন আইনে কি আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে তার ব্যাখাও দেয়া নাই।
সংশ্লিস্ট ইউপি ওয়ার্ড সদস্য জিয়াউল হক বলেন,সপ্তাহখানেক পূর্বে বিষয়টি জানেত পারি। ফেইসবুকে জানতে পারি যে এলাকায় গান-বাজনা হবে না,বিয়ে বাড়িতে গান বাজনা হবে না,ধর্মবিরোধি কোন কাজ গ্রামে চলবে না। এছাড়া পোড়াগ্রামের মহানন্দা নতুন সেতু মোড়ে নিজেই এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ টাঙ্গানো দেখি। ওই নোটিশটি প্রায় ১০ দিন পূর্বে টাঙ্গানো হয়েছে জানতে পারি। এখন ঘটনাটি শুরুর সাথে ঠিক করা কারা জড়িত ছিলেন সে ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান ইউপি সদস্য জিয়াউল।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম বলেন, ৩ দিন পূর্বে ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ওই মসজিদে গিয়ে ইমামসহ সংশ্লিস্ট সকলের সাথে কথা বলে পদক্ষেপ নিয়েছে। কমিটি ভুল স্বীকার করেছে। এ সংক্রান্ত পোষ্টার-ব্যান্যার,কাগজপত্র জব্দ হয়েছে। কমিটিকে কঠোর সতর্ক করা হয়েছে। এলাকার দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। মসজিদ কমিটি এ ধরণের কাজ করতে পারে না। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান,সদস্য,গ্রাম পুলিশ সহ স্থানীয়দের প্রথমে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে ওই মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয় এবং তাঁদের ডেকে পাঠানো হয়। তাঁদের জানানো হয়, দ্রুত অবস্থান থেকে সরে আসার ঘোষণা দিলে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়্ াহবে। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সে প্রেক্ষিতে ইমাম সহ কমিটি ও গ্রামবাসীদের ৭-১০ জন পোষ্টার-ব্যানার অপসারণ করে গত বৃহস্পতিবার(৫ মার্চ) বিকালে (ইউএনও) অফিসে এসে দেখা করেন। তাঁরা দূ:খ প্রকাশ করেন। তাঁরা অঙ্গীকার করেন,রোববার (৮মার্চ) থেকে সোমবার (৯মার্চ) তাঁরা এ সংক্রান্ত রেজুলেশন করে জমা দেবেন। ইউএনও বলেন, অতি আবেগে তাঁরা এমনটি ঘটিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। তবে তাঁরা নোটিশ দেয়ার পর কোন ধরণের পদক্ষেপ নেন নাই।