শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬

চৌগাছায় চলছে ৩ দিনব্যাপী খেজুর গুড় মেলা-২০২৬

  • চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
  • ২০২৬-০২-১৮ ২০:৩৭:১৮

যশোরের চৌগাছায় খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য রক্ষায় ৩ দিনব্যাপী খেজুর গুড় মেলা- ২০২৬ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। 'যশোরের যশ, খেজুরের রস; স্বাদে সেরা গন্ধে ভরা, খেজুর গুড়ে মনোহরা' এ ঐতিহ্য ধারণ করে চৌগাছা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় গাছিদের নিয়ে মঙ্গলবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) পর্যন্ত উপজেলা চত্বরে তিন দিনব্যাপী এই গুড়ের মেলা চলবে। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির আহমেদ। অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এ জেড উবাইদুল্লাহর পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চল আলমগীর বিশ্বাস।  বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপ-পরিচালক  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চল  মোশারফ হোসেন, টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাসুম আব্দুল্লাহ, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভ‚মি রেশমা খাতুন। চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার মুশাব্বির হোসাইন,  উপজেলা উৎভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শামিম খান, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম, বাদশা ফয়সাল, শামীম আহমেদ ও চাঁদ আলী প্রমুখ। এ মেলার প্রথম দিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক গাছি তাদের উৎপাদিত ঝোলাগুড়, দানাগুড়, পাটালি, বাদাম-পাটালি, তিল-পাটালি নিয়ে অংশ নেন। এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তারা গুড় দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পিঠার স্টল দিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন আশা করছে, মেলা থেকে তিন দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ মণ গুড় বিক্রি করতে পারবেন গাছিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, উপজেলায় খেজুর গাছ রয়েছে প্রায়১লাখ ৯৬ হাজারটি। যার মধ্যে রস উৎপাদনের মতো খেজুর গাছ রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার, যা থেকে উপজেলার প্রায় ১৫০০ গাছি রস উৎপাদন করে থাকেন। সে হিসেবে মৌসুমে প্রতিটি গাছ থেকে ৮০ লিটার রস পাওয়া যায়। এ বছর উপজেলায় মোট ৮৭২৩২ লিটার রস সংগ্রহহের সম্ভাবনা রয়েছে। যা থেকে গুড় তৈরী হবে প্রায় ২১৮ মেঃ টন। প্রতিকেজি গুড় ৪০০ টাকা দর হিসেবে ৮,০৭২,২১২ টাকা আয় হবে। দেশের অন্যান্য এলাকার থেকে চৌগাছার খেজুর গুড়ের স্বাদ বেশি হওয়ায় এর চাহিদা বেশি বলেও তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভির আহমেদ বলেন, মেলার তিন দিনে গাছিরা ৫০০ থেকে ৬০০ মণ গুড় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছি। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন সব সময়ই গাছিদের পাশে ছিল, আগামীতেও থাকবে।


এ জাতীয় আরো খবর