যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ নিরসনে তার ঘোষিত শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এই ধাপে গাজাকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে একটি নতুন প্রযুক্তিনির্ভর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। তিনি জানান, এই পর্যায়ে গাজা প্রশাসন জাতীয় কমিটি (এনসিএজি) নামের একটি নতুন কাঠামোকে সমর্থন দিচ্ছে তার প্রশাসন, যা স্থানান্তরকালীন সময়ে গাজার শাসন পরিচালনা করবে।
এর আগে ট্রাম্পের ২০ দফা রোডম্যাপের প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি, বন্দি বিনিময় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। অক্টোবরের শুরুতে ইসরায়েল ও হামাস এই ধাপে সম্মত হলেও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় অন্তত ৪৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ট্রাম্প তার ঘোষণায় বলেন, দ্বিতীয় ধাপে হামাসের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় সব ধরনের অস্ত্র হস্তান্তর এবং গাজায় থাকা সব সুড়ঙ্গ ধ্বংসের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে এই প্রতিশ্রুতি মানতেই হবে-না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নতুন গঠিত এনসিএজি ১৫ জন ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদ নিয়ে গঠিত, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক ফিলিস্তিনি প্রশাসনের উপমন্ত্রী আলি শাথের। বৃহস্পতিবার মিশরের কায়রোতে কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, তারা শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও ইসরায়েল দখলদারিত্ব বজায় রাখলে অস্ত্র হস্তান্তরের প্রশ্নে তারা সম্মত নয়। একই সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দ্বিতীয় ধাপকে মূলত প্রতীকী আখ্যা দিয়ে বলেন, নতুন প্রশাসনিক কাঠামো ঘোষণাকে বাস্তব অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন না তিনি।
গাজা সংকট ঘিরে এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার মাত্রা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কী-ওয়ার্ডস:গাজা সংকট, ট্রাম্প শান্তি পরিকল্পনা, হামাস-ইসরায়েল