দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ২০২৬–২০৫০ মেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে উপস্থাপন করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে গবেষণার জন্য একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। এই খাত শক্তিশালী না হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে না। তাই নীতিনির্ধারণে গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিকল্প নেই।
সভায় জানানো হয়, নতুন মহাপরিকল্পনা তিনটি ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে-প্রথম ধাপ ২০২৬-২০৩০, দ্বিতীয় ধাপ ২০৩০-২০৪০ এবং তৃতীয় ধাপ ২০৪০-২০৫০ সাল। প্রাথমিক পর্যায়ে অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, এলএনজি সরবরাহ ও কৌশলগত জ্বালানি মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে অফশোর গ্যাস উন্নয়ন, বৃহৎ রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প সম্প্রসারণ, হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া অবকাঠামো, জিওথার্মাল শক্তি এবং জোয়ার-ভাটাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বিকল্প উৎস উন্নয়নের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা অতীতের পরিকল্পনাগুলোকে ‘খাপছাড়া’ আখ্যা দিয়ে বলেন, আগের ধারার ভুল সিদ্ধান্ত ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে নতুন করে শুরু করতে হবে। এজন্য গবেষণা ইনস্টিটিউশনটি মন্ত্রণালয়ের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারকে নীতিগত সহায়তা দেবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ১৭ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫৯ গিগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। যদিও উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে নিঃসরণও বাড়বে, তবে পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জলবায়ু উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৫০ সালের মধ্যে মোট ১,৬০০ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস করা যাবে।
এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০২৬-২০৫০ মেয়াদে জ্বালানি খাতে ৭০-৮৫ বিলিয়ন ডলার এবং বিদ্যুৎ খাতে ১০৭.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে।
কী-ওয়ার্ডস:জ্বালানি মহাপরিকল্পনা, বিদ্যুৎ খাত সংস্কার, গবেষণা ইনস্টিটিউশন