শুক্রবার, মে ১, ২০২৬

ই ভা আ ল মা স

  • একটি বুলেট, অতঃপর
  • ২০২৩-০৯-০১ ১৭:০৫:০০

সেদিনও আকাশ ছিল রৌদ্রকরোজ্জ্বল, 
রাতে পূর্ণিমাও ছিল বোধহয়  
প্রতিদিনের মতো সেদিনটিতেও আপনি ছিলেন কর্ম চঞ্চল 
নিয়মের সাযুজ্যে এতোটুকু হয়নি ব্যতিক্রম  
সেদিন রাতেও ডাইনিং টেবিলে ছিল আপনার তর্জনীর উল্লাস। 
যথা সময়েই আপনি গিয়েছিলেন বেডরুমে 
প্রিয়তমা স্ত্রী আর আদরের রাসেলকে নিয়ে 
কামাল আর জামাল গেলেন নিজ ঘরে বধূদের সান্নিধ্যে 
তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছিলেন কী না জানি না অস্থিরতায় রাত কেটেছিল কী না জানি না 
হয়তো কেবলই দু'চোখের পাতায় ঘুমের শিশিরবিন্দু পড়ছিল টুপটাপ 
ঠিক তখনই 
দ্রিম দ্রিম শব্দে আপনি চমকে উঠলেন! 

ততক্ষণে দরজায় করাঘাত 
আপনি বেরিয়ে এলেন, 
সিড়ি দিয়ে নামতেই ব্রাশফায়ার...
আপনি পড়ে গেলেন 
মুখ থুবড়ে পড়ে গেলো স্বাধীনতা 
নিভে গেলো স্বপ্নের আলো 
বাঙালি জাতি হারালো জাতির পিতা।
স্বাধীন বাংলাদেশ রঞ্জিত হলো আপনার পবিত্র রক্তে  
এ দেশ হলো অভিভাবকহীন 
অসহায় আর পথহারা। 

হে জাতির পিতা, 
আপনি চলে গিয়ে ভালোই করেছেন 
আপনার সোনার বাংলাদেশ সেদিনই হয়েছে স্বাপদের আস্তানা 
হায়েনার স্বর্গরাজ্য আর     
ধর্ষকের অভয়ারণ্য। 
আপনার বাংলাদেশে আজ অকাতরে চলে খুন, ধর্ষণ, লুটতরাজ আর ঘুষের লেনদেন। 
আপনার সোনার বাংলায় আজ কালো টাকার কুমিরের বাস, 
অসহায় মজলুম মার খায় বারো মাস। 

হে জাতির পিতা, 
আপনি চোখ বুজে ভালোই করেছেন 
দেখতে হয়নি নিজ কন্যাকে হত্যার ষড়যন্ত্র, 
প্রতিবাদের বদলায় চলে চাপাতির কোপ, 
সত্যিরা পথে পথে হয় নির্যাতিত, নিপীড়িত। 
তবুও একটি কথা থেকে যায় শ্রদ্ধেয়,  
বড় জানতে ইচ্ছে করে --
যে সন্তানের জন্য আপনি নিজ জীবন উৎসর্গ করেছিলেন অকাতরে, 
সেই সন্তান যখন আপনাকে তাক 
করেছিল বন্দুকের নল 
আপনি কি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার মুহূর্তে তাদের ক্ষমা করেছিলেন  
নাকি অভিশাপে জর্জরিত করেছিলেন আপনার সোনার বাংলাকে? 
জানতে ইচ্ছে করে 
বড্ড জানতে ইচ্ছে করে...
 


এ জাতীয় আরো খবর