বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিপূর্ণ সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মুনাজাতের আয়োজন করেন ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি। আজ ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেলে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলে অংশ নেন বিশিষ্ট আলেমসমাজ, হাফেজ-কারী এবং স্থানীয় হাজারো নেতাকর্মী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, গুম হওয়া বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমের সন্তান শাওন চৌধুরী, বিশিষ্ট লেখক রাকেশ রহমানসহ আরও অনেকে।
দোয়া অনুষ্ঠানের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, “আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য শুধু আমরা নয়—সারা দেশবাসী দোয়া করছে। আপনারা সবাই তাঁর সুস্থতার জন্য বেশি বেশি দোয়া করবেন।” তিনি আরও বলেন, “২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আমার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ ৮ জনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। আজও তারা কেউ ফিরে আসেনি। আমার মা হাজেরা খাতুন, যিনি ‘মায়ের ডাক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি—তিনি তাঁর সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রতিদিন পথ চেয়ে আছেন। হাজারো নিখোঁজ সন্তানের মায়েরা আজও একই অপেক্ষায় রয়েছেন।”
তিনি গুম হওয়া সকল মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক মহল, মানবাধিকার সংস্থা ও দেশবাসীর আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বক্তারা গুম-খুন-নিখোঁজ হওয়া পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান করেন।
দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা ওবায়দুর রহমান। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা, দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি, নিখোঁজ সকলের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং জাতির মুক্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলকে কেন্দ্র করে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বর এলাকায় উৎসর্গ, বেদনার স্মৃতি ও আশা–এই তিনের এক অনন্য সমাবেশ দেখা যায়। বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে দোয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম আরও বেগবান হবে, আর দেশনেত্রী খালেদা জিয়া শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবেন।