দেশের শীর্ষ ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন-গত কয়েক দিনের ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই; বরং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয়ভাবে প্রস্তুতি জোরদার করাই এখন জরুরি। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এই সুপারিশ উঠে আসে।
সভায় বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার অতিরিক্ত আতঙ্ক ছড়াতে চায় না এবং অবৈজ্ঞানিক পদক্ষেপও নেবে না। তাই দ্রুত লিখিত সুপারিশ জমা দিলে প্রয়োজনীয় টাস্কফোর্স ও বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জানান, ভূমিকম্প প্রস্তুতি, জনসচেতনতা, মহড়া, স্থাপনার নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয়-সব ক্ষেত্রেই সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
সভায় জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম হলেও সচেতনতা ও প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। তারা বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বড় ভূমিকম্প”, বা “১০ দিনের মধ্যে ধ্বংসাত্মক কম্পন”– এসব তথ্য সম্পূর্ণ গুজব। ভূমিকম্প কখন হবে তা কেউ সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারে না।
বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং এমআইএসটি–র বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশের ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ–গ্যাস অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সক্ষমতা এখনই মূল্যায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে স্কুল-কলেজে নিয়মিত মহড়া, তরুণদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা কর্মসূচি, এবং খোলা স্থান চিহ্নিতকরণ দ্রুত শুরু করার পরামর্শ দেন তারা।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জানান, বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ফাটল ধরা ভবনের তথ্য সংগ্রহ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং শতাধিক ভবনের প্রাথমিক মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে।
সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয়-বিশেষজ্ঞদের লিখিত সুপারিশ পাওয়ার পর সরকার জরুরি টাস্কফোর্স গঠন করবে এবং জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ভূমিকম্প প্রস্তুতি পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
কীওয়ার্ডস:ভূমিকম্প প্রস্তুতি, বিশেষজ্ঞ মতামত, গুজব প্রতিরোধ