প্রতিদিন সূর্যোদয় হয় আবার অস্তও যায় পশ্চিমে
এই চিরন্তন সত্যে অমত নেই, থাকতেও নেই
হয়তো মেঘের আড়ালে ক্ষণিক হারিয়ে যায়
আবার মেঘ কেটে গেলেই হেসে ওঠে রোদ্দুরে।
তবে রবীন্দ্রনাথ ক্রমেই অপাঙক্তেয় হয়ে উঠছেন
সাহিত্যের পাতা ছিঁড়ে এখন তিনি রাজনীতিজ্ঞ
দুখণ্ড জাতীয় সংগীত লিখেই অশুচি হয়ে উঠেছেন
অবাঙালির চেয়ে বাঙালির কাছেই হচ্ছেন হেয়,
তাঁর দোষ দেখি না --- যত দোষ এই বাঙালির
ধর্মভেদে এদের অবিমৃশ্যতা দেখেছি সবকালেই
এরা ঘরের চেয়ে পরকে চায় আপন করে
ইতিহাস বিস্মৃত এই জাতি তবে বাঁচে কী করে !
নেতাজি যেদিন উচ্ছিষ্ট হলেন রাজনীতি থেকে
যেদিন কোলকাতা থেকে দিল্লি গেল রাজপাট
সেদিনই রবীন্দ্রনাথ উঠেছিলেন ড্রয়িংরুমে
শিঙঅলা হরিণের মাথার পাশে নির্বাক হয়েছিলেন।
বর্গির হাঙ্গামা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ জানতেন
রঘুজী ভোঁসলে ও ভাস্কর পণ্ডিককে চিনতেন বিলক্ষণ,
আর ভক্তির আতিশয্য ছিল গোঁড়া বঙ্কিম চাটুয্যে।
ঈশ্বর চন্দ্রই যেখানে নিষ্পেষিত কালের জাঁতাকলে
রাজর্ষী রবীন্দ্রনাথ অবজ্ঞা সইবেন নীরব অশ্রুজলে।