পুরুলিয়ায় পাথর মোহর রাজবাড়ীর মাদূর্গার হাজার একটা গিনি দিয়ে তৈরি হার চুরি হয়েছে , এই নিয়ে হৈচৈ পরে গেছে অত পুরানো গহনা সরকারি সম্পত্তি।
পুরুলিয়ায় পুরোনো আমলের রাজবাড়ী পাথর মহড়া রাজবাড়ী বহু পুরানো আমলের। এখানকার দুর্গাপুজো আড়াই শো বছরের পুরানো।
সব শরিকরা মিলে প্রায় প্রতি বছর বাড়িটি সংস্কার করে পুজো করা হয়।
পুজোর প্রায় দুমাস আগে থেকে শরিকদের আসা শুরু হয়। ওখানে থাকে এখনকার বৃদ্ধ জমিদার তার স্ত্রী দুই ভাইপো ও তাদের পরিবার ছেলে বিদেশে থাকে বহুবছর, এ বছর খবর পাঠিয়েছে সে তার এক বন্ধু কে নিয়ে আসছে। ওপরের একটা বড় ঘর বাথরুম সংলগ্ন যেন ওদের জন্য পরিস্কার করে রাখা হয়।
আর ওঁর সেজদার ছেলে মেয়ে ও তাদের পরিবারও আসছে সুতরাং তাদের জন্য দুটো বড়ঘর বাথরুম সংলগ্ন যেন ঠিক করা থাকে।
দেখতে দেখতে পুজো এসে যাচ্ছে শরিকরা সব আসতে শুরু করেছে। রাজবাড়ীর একটু দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কয়েকটি অতিথি নিবাস এরা বর্তমানে করেছে, এগুলো আগে থেকে বুক করতে হয় কিছুটা পুজোর খরচ তোলার জন্যে বটে। অনেকেই আছেন পুরানো আমলের রাজবাড়ীর দুর্গাপুজো দেখতে খুব আগ্রহী।
পুজো এসে যাওয়ায় একে একে অতিথিরা আসতে শুরু করে। এবারে মেজ তরফের দুই ছেলে এসেছে বউ ছেলে নিয়ে তারা বেশ গুণ্ডা প্রকৃতির তাদের বউরা স্বামীদের হাতে নিত্য প্রহারে জর্জরিত। রোজই রাতে তাদের কান্নার আওয়াজ পাওয়া যায়।
গিনির মালা চুরি যাওয়ায় তার তদন্তের ভার পড়ল সুব্রত ও তার অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম বন্ধু নির্মলের ওপর।
সুব্রত দেখল অতিথি বাসে তাদেরও থাকার ব্যাবস্থা হয়েছে। তার পাশের অতিথি নিবাস দুই বোন বাবা মা সহ এসে উঠেছে। মেয়ে দুটিকে বেশ মিষ্টি দেখতে।
সুব্রতরা পাশের নিবাসে উঠেছে শুনে মেয়ে দুটি নিজেই সেদে আলাপ করতে এলে বড় মেয়েটি চোখেমুখে এক অদ্ভুত লালিত্য একবার তাকালে চট করে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া যায়না আরও চোখে পড়ল চোখে মুখে কালশিটে দাগ ওর বিয়ে হয়ে গেছে এবাড়ির বউ তবে ওরা বাইরে থাকে বলে দুদিন বাবা মায়ের চেয়েও ছোট শালীর আব্দারে এখানে থাকছে কাল আবার ভিতর বাড়ি চলে যাবে। এত কথা বলার জন্য বড়বোন রেগে গেল বলল কেন তুই আমার বিষয়ে এত কথা বলছিস? ছোট মেয়েটি বেশ চালাকচতুর মিষ্টি মেয়ে গোয়েন্দার বই পড়ে পড়ে গোয়েন্দা এসেছে শুনে পাগল হয়ে গেছে দিদি কেও টানতে টানতে নিয়ে এসেছে।
সেদিন ছিল চতুর্থী সাজানোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। কুল পুরোহিত এসে নিত্য পুজো করতে করতে হঠাৎ চমকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল সুব্রত শুধু প্যান্ডেলের পাশ থেকে দুটো বাঘের চোখ দেখল।
কুল পুরোহিত ছুটতে ছুটতে নিজের ছোট্ট বাড়ির দিকে দৌড়াচ্ছে আর বলছে আমি মিথ্যা বলিনা।
সুব্রত হঠাৎ বলে উঠল আজ চতুর্থী না?
হ্যাঁ আজ চতুর্থী সুব্রত দা।
সুব্রত মনে মনে হাসল সুব্রত দা ডাকটা শুনে কিন্তু এও বুঝল যে আজ কালের মধ্যে একজন খুন হবে তার একটু একা চিন্তার প্রয়োজন। মেয়ে দুটিকে বলল তোমাদের নাম জিজ্ঞেস করা হয়নি?
ছোট মেয়েটি তরতর করে বলল আমি পঞ্চমীর দিন হয়েছি বলে আমার নাম পঞ্চমী আর ও চতুর্থীর দিন হয়েছে বলে ওর নাম চতুর্থী।
নির্মল লেখক মানুষ অতশত বোঝেনা সে মেয়ে দুটিকে জিজ্ঞেস করল,
আচ্ছা তোমরা কি চা খাবে?
চতুর্থী বলল আসলে এই মেয়েটির গোয়েন্দা গল্প পড়ে পড়ে মাথাটা একবারে গেছে তাই গোয়েন্দা এসেছে শুনে ছুটে চলে এসেছে। তা গোয়েন্দা বাবু তো ঘরে দরজা দিয়েছে এখন চল তোকে একটু ঘুরে দেখিয়ে আনি,
পঞ্চমী বিরস মুখে বলল হ্যাঁ চল কি আর করা যাবে।
দেখিয়ে আনি মানে আপনি কি চেনেন না কি জায়গাটা?আগে এসেছেন?
পঞ্চমী বলতে গেল হ্যাঁ এটা তো ওর এই,অবধি বলার পর চতুর্থী বলল, তোকে বলেছি না আমার ব্যাপারে মুখ খুলবিনা,
সরি দিদি আর ভুল হবেনা, ওরা কথা বলতে বলতে বেরিয়ে গেল নির্মল একটু অবাক হয়ে গেল কেন ওর ব্যাপারে মুখ খুলবে না, কি এমন ব্যাপার নির্মলের চিন্তার মাঝেই সুব্রত ঘর থেকে বেরিয়ে বলল খুব চিন্তান্বিত মনে হচ্ছে?
হ্যাঁ কেমন যেন অদ্ভুত আচরণ লাগল বড় মেয়েটির,
সুব্রত বলল তা ভাল তা হলে দেখছি তুমিও আজকাল মাথা ঘামাচ্ছ?
ওই চব্বিশ ঘণ্টা গোয়েন্দার সাথে থাকলে যা হয় আর কি?
দুবোনের মধ্যে চেহারার কোন মিল দেখলে?
না সেটাও আশ্চর্য! একটু তো মিল থাকে?
সুব্রত বলল, আবার অনেক ক্ষেত্রে থাকেনা,
হ্যাঁ তাও হয় অবশ্য ,
তবে আমার অনুমান যদি ঠিক হয় এরা দুই বোন নয়।
তুমি একটু বসে আমি একটু ঘুরে আসছি,
বাহ্ রে আমিও তো ঘুরে আসতে পারি?
আমি যেখানে যাচ্ছি সেখানে তোমার যাওয়া যাবেনা গেলে নিশ্চয় নিয়ে যেতাম, সুব্রত বেরিয়ে গেল আর নির্মল মুখ টা বেজার করে বসে রইল।
সুব্রত বাইরে বেরিয়ে একটু নির্জন জায়গা দেখে মুখটা কাল মাফলার ঢেকে নিল। জায়গাটায় শীত পড়তে আরম্ভ করছে তাই কেউ কিছু সন্দেহ করবেনা।
যেতে যেতে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল দেখল চতুর্থী আর পঞ্চমী দুই বোন দাঁড়িয়ে কি সব কথা বলছে চতুর্থীর চোখের জল মুছিয়ে দিচ্ছে পঞ্চমী।
সুব্রত একটু আড়ালে গিয়ে দাঁড়িয়ে শোনবার চেষ্টা করল ওদের কথা।
চতুর্থী কে পঞ্চমী বলছে কেন রে দিদি তুই যেতে চায়না এখানে মার খেয়ে পড়ে আছিস সারা মুখে কালশিটে যে কেউ দেখেই তোকে জিজ্ঞেস করবে,
হ্যাঁ নির্মল বাবুও তো জিজ্ঞেস করলেন মুখে এত দাগ কেন?
তুই পড়ে গিয়েছিস বলে ম্যানেজ করলি কিন্তু গোয়েন্দা বাবু থাকলে ঠিক ধরে ফেলত,
তোর জামাইবাবু যদি জানতে পারে আমি গোয়েন্দাদের বাড়ি গিয়েছিলাম তাহলে কপালে আমার দুঃখ আছে,
না না এখন আমরা আছি কিছু করতে সাহস করবেনা, তুই ওকে চিনিসনা ওর ল্যাজে পা পড়লে ও কাউকে চেনেনা তাছাড়া আমি তো বাবা মায়ের নিজের মেয়ে নই ওখানে কি কম মার খেয়েছি? তুই ভুলে গিয়েছিস?
না রে দিদি ভুলিনি তখন আমি ছোট ছিলাম এখন হাত তুলে দেখুক তো? আমি বলেছি দিদির ওপর অত্যাচার হচ্ছে শুনে আনতে যাচ্ছ ঠিকই কিন্তু এখানেও তো ওর একই অবস্থা,
বাবা বললেন, পাপ করেছি খুব পাপ করেছি এবারে ওকে অনেক আদরে রাখব আর কলেজে ভর্তি করে দেব তোর মা যাতে ওকে দিয়ে কাজ না করায় তাই একটা দিন রাতের লোক রেখেছি তুই তো সব জানিস।
আমার একমাত্র ছোট বোন কত আশা করে আমার হাতে ওকে দিয়ে গিয়েছিল আর আমি তোর মায়ের পাল্লায় পড়ে মেয়েটাকে কি কষ্ট না দিয়েছি। তাই বলছি ওখানে গেলে আর তোর কষ্ট হবেনা,
কি জানি রে নিজের ভাগ্য কে বিশ্বাস করিনা।
সুব্রতর খুব কষ্ট হল এই করুণ কাহিনি শুনে। যাই হোক সুব্রত তার গন্তব্য স্থানের দিকে চলে গেল।
সুব্রত গেল পুলিশ স্টেশনের দিকে। যাবতীয় ব্যাপার টা বুঝিয়ে বলল এবং আজ রাতের অন্ধকারে পুলিশ বাড়ির কোণায় কোণায় লুকিয়ে থাকবে যা সন্দেহ করা হচ্ছে সেরকম কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে হুইশিল বাজিয়ে অপরাধী কে ঘিরে ফেলা হবে। সবাই সশস্ত্র থাকবে একজনকে ধরতে চার জনের বেশি লাগবেনা,
সুব্রত বলল একজন নয় একটা বড় গ্যাঙ তৈরি করেছে এরা। তাই ফোর্স নিয়ে ঘিরে ফেলতে হবে।
সুব্রত ফিরে এল,এসে দেখল নির্মল মুখ গোঁজ করে বসে চা খাচ্ছে,
সুব্রত বলল, কি বন্ধু একা চা খাবে? আমাকে দেবেনা?
বন্ধু বলে যদি সত্যি ভাবতে তবে আমাকেও নিয়ে যেতে,
আরে তুমি আমি একসাথে গেলে সবাই চিনে যেত হয়ত কেউ ফলো করত। আমি লুকিয়ে গিয়েছিলাম,
আরে কোথায় বলবে তো?
মামার বাড়ি,
মানে এখানে তোমার মামার বাড়ি আছে না কি?
আমাদের সব জায়গায় মামার বাড়ি আছে , সব জায়গায় মামাদের সাথে ভাব ভালবাসা করে রাখতে হয়,
নির্মল বলল, পুলিশ স্টেশন?
হ্যাঁ এইত আমার বন্ধুর বুদ্ধি হয়েছে,
তুমি কি আমাকে বোকা ভাবতে না কি?
না না এরপর আর কি করে বোকা বলি, যাক গে এখন একটু কড়া করে চা খাই, আজ রাত জাগতে হবে,
তুমি পুলিশ ফোর্স আনতে বলেছ তো?
হ্যাঁ রে বাবা। রাতের বেলায় একটু সজাগ থেক আমি বাইরে থাকব তিনবার টক টক টক করে টোকা পড়লে দরজাটা খুলে দিও,
ওরে বাবা তোমার জায়গায় যদি অন্য কেউ হয়? আমার ভয় করছে
দূর বাবা গোয়েন্দার বন্ধুর এত ভীতু হলে চলে। ভয়ের কিছু নেই আটঘাট বেঁধে নামছি।
রাতে ঘরে খাবার দিয়ে গেল বেশ ভাল ডাল , আলু পটলের ডালনা আর ছানার ডালনা পায়েস চাটনি মিষ্টি। পুজোর বাড়ি নিরামিষ খাবার এখন থেকে চালু করে দিয়েছে।
এভাবে নিরামিষ খাওয়ালে হৈচৈ শুরু করে দেব
হঠাৎ সুব্রত কে বলে জানলার দিকে ছুটে গেল,
গিয়ে দেখল পঞ্চমী ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে, তাড়াতাড়ি দরজা খুলে ওকে ভিতরে নিয়ে এসে বলল, কি হয়েছে বল আমাকে?
জানেন দিদিকে না জামাই বাবু হির হির করে টেনে নিয়ে গেল দিদি খুব কাঁদছে বাবাও খুব কাঁদছে বাবাই পাঠাল আপনার কাছে সব বলতে, বাবা দিদিকে ভালবাসে কিন্তু মায়ের ভয়ে চুপচাপ থাকত যদি মা আরও মারধোর করে তাই
মা কে শাসন করতে পারেনা?
করত এমন কি দু একবার গায়েও হাত তুলেছে মানে তুলতে বাধ্য হয়েছে
কেন তুলতে বাধ্য হয়েছে?
গরম খুন্তি চেপে ধরেছিল হাতে তখন বাবা আর নিজেকে সামলাতে পারেনি, এত নিষ্ঠুর মানুষ হতে পারে? এবার তুমি দেখ কেমন লাগে? বলে পায়ের চটি খুলে খুব মেরেছিল সব শরীর ফুলে গিয়েছিল, তারপরই তো বাবা তারাহুরো করে বিয়ে দিয়ে দেয় বলেন এখানে থাকলে কোনদিন মরে যাবে,
দিদি কি তোমার নিজের দিদি?
না, বমার পিসতুতো দিদি, দিদির একবছর বয়েসে পিসি মারা যায়।
পিসেমশাই?
দেনাপাওনা কম হওয়ায় পিসিকে বাপের বাড়ি বসিয়ে দিয়ে গিয়েছিল। ওদের মা মেয়ের দুজনেরই কপাল খারাপ
আর থাকবেনা এবার তোমার দিদি ভাল থাকবে
কি করে জানলেন,?
না জানলে আর গোয়েন্দা হলাম কি করে?
যাও এখন বাড়ি যাও খুব সাবধানে যেও।
ক্রমশ রাত ঘনিয়ে এল, অন্ধকারে ভেসে আসছে এক নারীর আকুল কান্না, নির্মল ভাবছে বাড়িতে এত লোকজন অথচ মেয়েটি এভাবে নির্যাতিত হচ্ছে কেউ এগিয়ে আসছেনা। সুব্রত তখনও বেরোয়নি সেও কপালে হাত দিয়ে বসে আছে বলল, আমরা কি যুগে বাস করছি?
নির্মল বলল আমিও তাই ভাবছিলাম,
বেশি ভেবে কা
কাজ নেই এবার কাজের কাজ করতে হবে,
হঠাৎ চিৎকার শোনা গেল চতুর্থীর তারপরই সব চুপ নির্মল বলে উঠল কি হল? মেরে ফেলল না তো?
সুব্রত বলল, নানা ওকে মেরে ফেলবে না তাহলে তো ওর বদমায়েশি চলবেনা না,
নাও তুমি এবার শুয়ে পড় আমি বেরুবো। ভিতরে বুলেটপ্রুফ গেঞ্জি পড়ে নিল নিজের বন্দুকে গুলি ভরে সার্চ লাইট নিয়ে আগাগোড়া কালো কম্বল মুড়ে আসতে করে দরজা খুলে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল আর নির্মল নিঃশব্দে দরজাটা বন্ধ করে দিল।
সুব্রত সাজ শয্যা পড়ে গন্তব্যের দিকে হেঁটে চলেছে হঠাৎ মনে হল কেউ তাকে ধরেছে সে চমকে উঠল, খুব আসতে গলায় কেউ বলল ভয় নেই আমি পুলিশ ইন্সপেক্টর দেবেন্দ্র সিং,
ও আপনারা এসে গেছেন? হ্যাঁ অনেকক্ষণ আপনি ঠিকই বলেছেন এরা একটা বড় গ্যাং তবে ওরা জানেনা যে বাড়িটা ওরা প্রাণপণে খোলার চেষ্টা করছে সেই বাড়িটা পুলিশ ঘিরে ফেলেছে। এদিকে পুরুত মশাই ঠকঠক করে ভয়ে কাঁপছে আর বলছে আমি মরে যাব তবু দীর্ঘদিন মায়ের পুজো করে আসছি,
একটা বিচ্ছিরি গালাগাল দিয়ে কেউ বলে উঠল, শালা তুই বলবি না তোর বাপ বলবে, সঙ্গে সঙ্গে একজন পুলিশ অফিসার লোকটার ঘাড়ে বন্দুক ঠেকিয়ে বলল,শালা বাপের বাপ আছে।
বেশ কয়েকটি বন্দুকের শব্দ, সার্চলাইট সব জ্বলে 0উঠেছে, ইন্সপেক্টর বলছেন একজনও যেন পালাতে না পারে অসামাজিক গুণ্ডা সব। প্রত্যেকের পা জখম করে দাও যাতে পালাতে না পারে, আর সেই বউ ঠ্যাঙানো মালটা কোথায় নিজের বাড়ির ঐতিহ্য কে বিক্রি করে দেয়।
মেজ তরফের দুই ছেলেকে ঘাড় ধরে মারতে মারতে পুলিশ নিয়ে এল সারা মহল্লা জেগে উঠল পুরুত মশাইকে পুলিশ গিয়ে বার করে নিয়ে এল।
এবার বলুন কি হয়েছিল?
আমি মায়ের সন্ধ্যা আরতি করছি নিত্য করি হঠাৎ মনে হল গিনির মালাটা এরকম ম্যরম্যারে কি করে হল? এটাতো আমাদের আসল মালা নয়, তারপরই দেখি বাঘের মুখোশ পড়ে এ বাড়ির মেজ তরফের বড়ছেলে ছুড়ি হাতে দাঁড়িয়ে আছে, আমি বললাম ও তুমিই কালপিট ওইজন্য তোমরা যতবার আস মায়ের একটা করে গয়না খোয়া যায় এবারে একেবারে বড় জিনিসে হাত দিয়েছ গিনির মালা, আমার প্রাণ থাকতে এ মালা চুরি যেতে দেবনা আমি কালই পুলিশে খবর দেব , সে বলে এই আমার নাম করবি তো তোর বাবার নাম ভুলিয়ে দেব ,
একজন পুলিশ ওর পিঠে সজোরে একটা ডাণ্ডা মেরে বলল আমরা তোর বাপের বাপের নাম ভুলিয়ে দেব।
বল কোথায় মালা রেখেছিস? আবার একটা ডাণ্ডার বাড়ি
ওরে বাবারে!
বর্তমান জমিদার যে তিনি লাঠি ঠকঠক করে এসে বললেন আমাদের তিনশো বছরের পুরান গিনির মালা ও তো মিউজিয়ামে রাখার জিনিস, এরা যখনই আসে একটা দুটো করে মায়ের গয়না চুরি হয় আর বউটাকে তো কি মারে বাপও কিছু বলেনা
আপনারাও তো বলতে পারেন বলেন না কেন?
বাবার ওই গুণ্ডার সাথে গুণ্ডামি করতে কে যাবে?
বাকি সবাইকে নিয়ে গিয়ে থানায় খুব মারা হচ্ছে এবাড়ির ছেলেও বাদ যাচ্ছেনা,
বর্তমান জমিদারের যে ছেলে বউ এবার বিদেশ থেকে এসেছে সে বলছে, কি কেমন লাগছে?
বউকে যখন মারো মনে থাকেনা? তার এরচেয়েও বেশি লাগে ,
হ্যাঁ বুঝতে পারছি এই ভগবানের নাম নিয়ে বলছি আর মারবনা,
তাহলে বল কোথায় রেখেছিস? সত্যি বলছি জানিনা নইলে এত মার খেয়ে চুপ করে থাকব আমাদের সবাইকেই তো মারছেন কেউ বলতে পারছেনা কেন?
হঠাৎ সুব্রত বর্তমান জমিদারের যে ছেলে বাইরে থেকে এসেছেন তাকে জিজ্ঞেস করলেন?
আপনি এখন কোথায় থাকেন?
শরিকদের মধ্যে থেকে অনেকে বললেন হ্যাঁ চুরি হয় বটে তবে ছিঁচকে চুরি এই ধরুন হাজার টাকা ছোট কোন আত্মীয়ের দুল বা আংটি বা কাঁসার থালা এইরকম এতবড় চুরি কোনদিন হয়নি এ তো ডাকাতি আর তাছাড়া এটা এই বংশের ঐতিহ্য, আমার মনে হচ্ছে এরমধ্যে আরও বড় কোন সংযোগ আছে,
হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন এরা স্থানীয় এতবড় একটা ঘটনা ঘটাবেনা
জমিদার বাবু তো তো করে বলতে গেলেন তা কে ঘটাবে এতবড় ঘটনা,
সুব্রত বলল, আমার তো মনে হচ্ছে এই বাড়িতে থাকে এমন কেউ সরিয়েছে,
জমিদার বললেন মানে? আপনি কি আমাকে সন্দেহ করেন? এইজন্যই কি আপনাকে আমি টাকা দিয়ে আনিয়েছি?
সুব্রত বলল,আপনি কি জন্য আনিয়েছেন তা আমি কি করে জানব? আমাকে বলেছিলেন হাজারটা গিনি দিয়ে তৈরি দুর্গার মালা চুরি গেছে? আমাকে তদন্ত করতে হবে এখন তদন্ত করতে গিয়ে যে গলি সামনে পড়ছে সেদিকেই তো যেতে হবে
ইন্সপেক্টর আপনি এখনি পুরুলিয়া থেকে কলকাতায় যাবার একটা ট্রেন আছে না?
হ্যাঁ আছে তো দশমিনিটের মধ্যে ছাড়বে,
ওটাকে আটকান, ওই ট্রেন থেকে কেউ যেন পালিয়ে যেতে না পারে,
ঠিক আছে আমি এখুনি সব ব্যবস্থা করছি,
আপনি আজ স্টেশনে গিয়েছিলেন না?
হ্যাঁ আমার বন্ধু এসেছিল সে আজ চলে যাচ্ছে তাই তারসাথে কিছুক্ষণ সময় কাটালাম।
তা বাড়িতেই তো থাকতে পারত হঠাৎ স্টেশনে কেন?
ওর এই বাড়িটা একদম ভসল লাগছিলনা বলছিল পোড়া বাড়ির মতন লাগছে মনে হচ্ছে ভুতের বাড়ি, অন্ধকারে করা সব ঘুরে বেড়ায়, প্রতিদিন নারীকণ্ঠের আর্তনাদ আমি এখানে একমুহূর্ত থাকবনা,তাছাড়া ওর পুজোর সময় নিরামিষ খেতে ভাল লাগছেনা।
যে ট্রেনে ছেলের বন্ধু ছিল সে সবে জমিয়ে ঘুমবার তাল করছে এমন সময় দেখল কোচে একদল পুলিশ উঠেছে, বন্ধুটি লাফিয়ে ওপরের বাঙ্ক থেকে নেমে নিজের অ্যাটাচি টাকে আঁকড়ে ধরল এটাকে নিয়ে তার কত স্বপ্ন থোরি দেবে সৌম্য কে নিজে আত্মসাৎ করবে তাই বাহানা বানিয়ে উল্টো পাল্টা কতটা বলে বেরিয়ে এসেছে। সৌম্য গবেটটা তাই বিশ্বাস করেছে। ও ইচ্ছে করেই রাতের ট্রেন টা নিয়েছে যাতে ভোর পাঁচটার মধ্যে অন্য ট্রেন ধরে যেখানে পারবে পালাবে তারপর সেখান থেকে পালাবে কিন্তু এ যে উল্টো কেস হয়ে গেল এদিকে এতবড় একটা প্ল্যান করেছে আর এদিকে গোয়েন্দা কে বলে রেখেছে সাধু সাজাবার জন্য।
যে ভাবে ঘিরে ধরে সার্চ করছে মনে হয়না পার পাবে।
সে সরু অ্যাটাচিটা জানলার গা বেয়ে রেললাইনে ফেলে দিতে চাইছিল তারপর পরের স্টেশনে নেমে ফিরতি ট্রেন ধরে এসে নিয়ে নেবে কিন্তু এরমধ্যে পুলিশ এসে অ্যাটাচি টা পেয়ে নিয়ে নেয়,?
যাকগে অন্তত জেল খাটা থেকে তো বাঁচবে,
না কিন্তু বাঁচতে পারলোনা তার কপালের ঘাম চোরের মতন এদিক ওদিক চাওয়া দেখে একজন পুলিশ এসে তার অ্যাটাচি টা ধরে ফেলে এবং জিনিস টা পেয়ে যায়
সে তো ধরা পড়ে সব দোষ টা বন্ধু সোহমের ঘাড়ে দিতে চাচ্ছে কিন্তু সোহমের কাজ এরকম গ্যাঙকে পরিচালনা করা। বাবাকে বলেছিল কি লাভ মিথ্যে সেন্টিমেন্টাল হয়ে ঐ হারটা বেচে দিলে দশ কোটিরও বেশি টাকা পাওয়া যাবে তারপরই দীর্ঘদিন পরে বন্ধু সহ দেশে আসার প্ল্যানে তার সন্দেহ হয় তাকে অনেকে জিজ্ঞেস করেছেন কোন কোম্পানি তে কাজ করে? কোনরকমে তো হাই সেকেন্ডারি পাশ করেছে। তার নিজেরও সন্দেহ ছিল ছেলে এ ধরনের কোন কাজে যুক্ত তিনি বুঝেসুঝেই গোয়েন্দা আনিয়েছিলেন।
এদিকে চতুর্থী কান্নাকাটি করছে আমি লোকের বাড়ি কাজ করে খাব কিন্তু আর এরকম বিনা কারণে চোরের মার খেতে পারবোনা,
বাবা এসে চতুর্থীকে বুকে জড়িয়ে বললেন তোর বাবা এখনও আছে রে মা তোকে লোকের বাড়ি কাজ করে খেতে হবে কেন? মাও এসে বুকে টেনে নিয়ে বললেন আর তোর সাথে কোন অন্যায় করবোনা আমাকে মাফ করে দিস মা।
চতুর্থীর বর বলল দূর ঘর করবিনা তো করিবনা বয়ে গেল আমিও করবোনা তোর মতন মেয়ের সঙ্গে ঘর। বর আদর করবে আবার মারবে যখম সেই মারাটা সহ্য কটে নিতেই হবে।
নির্মল বলল এ নিয়মটা আপনাকে কে বলেছেন? ঠিক আছে?
এ আবার কোথা থেকে এল?
সুব্রত এগিয়ে এসে বলল ও আমার বন্ধু আপনার চতুর্থীর হাত আমি আমার বন্ধু নির্মলের জন্য চেয়ে নিচ্ছি,
ভদ্রলোক বিগলিত হয়ে বললেন সত্যি বলছেন?
হ্যাঁ আমার বন্ধুর ওকে খুব পছন্দ, তার আগে এর সাথে ডিভোর্স টা করিয়ে নিতে হবে এ কথাটা জমিদার বাবু বললেন
সুব্রত এগিয়ে এসে বললেন আপনার মতন বাবা আমি দেখিনি, নিজের ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন?
হ্যাঁ ও যা কাজ করত তাতে আজ না হয় কাল ওকে জেলে যেতেই হত তারচেয়ে এখনই যাক,আমার বাড়ির ঐতিহ্য টা বজায় থাকুক।
নির্মল বলল, পঞ্চমীর যখন গোয়েন্দা এত পছন্দ তখন আমার বন্ধু কাম গোয়েন্দার সাথে পঞ্চমীর বিয়েটা হয়ে যাক।
হ্যাঁ একসাথে জোরা বিয়ে একেবারে তাহলে আমার এখান থেকেই হোক।
তবে তাই হোক কার্তিক মাসটা শেষ হোক অঘ্রাণের প্রথমেই বিয়ে লেগে যাবে,
জমিদার গিন্নি বললেন এমন বাপ দেখিনি ছেলেকে জেলে পাঠিয়ে বিয়ের আনন্দে মাতল,
অমন ছেলের বাপ হওয়ার থেকে ছেলে না থাকা ভাল।
সব ভাল যার শেষ ভাল তার
একদম শেষে জোরা বিয়ে,
তার আগে মেজ তুমি পুজো শেষ হলেই বিদায় নেবে এই বলে দিলাম তোমার ছেলেও ছিঁচকে চোর কাজে তোমাদের এখন একমাস তো জেলে থাকতে হবেই।