সপ্তাহের আজ শেষদিন -মসনদি আড্ডায়
আমার ডাক এসেছে- শায়েরি শোনাবার জন্য।
নানা সাজে সজ্জিত, সুগন্ধিমাখা গ্রীবা,
ঠোঁটে রক্ত লাল লিপস্টিকের আড়ালে মাদক হাসি-
আড্ডার জন্য একটি খোরাক বটে!
আমরা তাই কথা বলি না, শুধু আওয়াজ তুলে ভাবি,
এই তো আড্ডা জমে গেছে!
আমি ঘরভর্তি চেনামুখের মধ্যে অচেনার মত একা হয়ে যাই-
যেন কারো উপস্থিতির অভাবের ব্যথা
তীব্র হয়ে ঝরে পড়ে হৃদয়ের ঘরে, ফোঁটায় ফোঁটায়!
ঘরভর্তি লোকের মাঝে অসহায়ভাব
খানিক কেটে যায় অদৃশ্য সংযোগে, শব্দহীন সুরে-
সে দূর থেকে টের পায় আমি একা,
শূন্যতায় ডুবে আছি আমি একা!
অন্তহীন দূর থেকে বাক্য মেলে ধরে,
টুপটুপ ঝরে পড়ে আমার দুইহাতের তালুতে-
বলে, চেয়ে দেখো চারপাশ, দেখো
আমি আছি তোমার একবারে কাছেই।
আমার দুচোখ জলে ভরে যায়
তোমাকে ছুঁয়ে না দেখার যন্ত্রণায়!
ঝরে পড়ে মায়াময় কথার শিশির;
বলে, ছুঁতে না পারলেই কী কাছে নেই
আমি আছি- খুব কাছেই আছি
এই যে দেখ তোমার একদম পাশে!
হাজার মাইল দূরে বসেও আমার আকুতি তুমি ঠিক টের পাও।
আমার আনন্দিত হবারই কথা।
তবু আমার হতাশার মধ্যে –আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, জ্ঞানের আশ্রয় নেই।
ঈশ্বরের ভয়ানক অনুগ্রহে বলি, আকুতির রেহেলে আমার ঈহাটুকু তুলে রেখো।
যেদিন এই ধরাধামে আমি নাই হয়ে যাবো
সেদিন তোমার হৃদয় থেকে গোলাপজল ছিটিয়ে দিও।
তোমাকে কাছে না পাওয়ার ব্যথায় আমি অন্ধ হয়ে যাই,
আমার আর শায়েরি বলা হয় না।
রাত গভীর হয় – মাতাল সঙ্গীরা হাত ধরাধরি করে চলে যায়
আমি আবার হারিয়ে যাই প্যাসিফিক সমুদ্রের নীল নীল ঢেউয়ে।
নিঃশব্দ অন্ধকার জলে হারায় আমার না বলা শায়েরি!
জানি, তুমি ছিলে না- দূরে কিংবা কাছে!