চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পানি গত ১৩ আগষ্ট বিপৎসীমার ৩১ সে.মি নীচে সর্বোচ্চ ২১.৭৪ মিটার সমতলে প্রবাহিত হবার পর বিগত ৪৮ ঘন্টায় ৪ সেমি কমলেও মহানন্দা,পূণর্ভবা সহ জেলার নদীগুলোর পানিবৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে। পদ্মার পানিবৃদ্ধিতে তীরবর্তী ১২টি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে কমে এসেছে পদ্মার পানি বৃদ্ধি। অন্য নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকলেও কমেছে হার। তবে বন্যার মওসুমে এ অবস্থা স্থায়ী হবে না আবার বাড়বে তা নিয়ে চিন্তিত নদীতীরের বাসিন্দারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র বলছে, আগামী ২/১ দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হতে পারে। অবস্থা আরও খারাপ না হবার আশা করছে সংস্থাটি। শুক্রবার (১৫ আগষ্ট) সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মা বিপৎসীমার মাত্র ৩৫ সে.মি নীচ দিয়ে ২১.৭০ মিটার সমতলে প্রবাহিত হচ্ছিল। মহানন্দা বিপৎসীমার মাত্র ৭৬ সে.মি নীচে ১৯.৭৯ মিটার ও পূণর্ভবা বিপৎসীমার ১.৫২ মিটার নীচ দিয়ে ২০.০৩ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। অর্থাৎ জেলার সকল বড় নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নীচেই রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তথ্যনাযায়ী, চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মত পানিবৃদ্ধির কারণে বাড়ির চারদিকে ও ভেতরে পানি প্রবেশ করে পানিবন্দি হয়েছেন সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী হাজার হাজার পরিবার। অনেকেই মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন। গবাদিপশুরও নাজেহাল অবস্থা। বেড়েছে ত্রাণের চাহিদা।
সদরের নারায়নপুর,আলাতুলী,ইসলামপুর,দেবীনগর,শাজাহানপুর,চরবাগডাঙ্গা,সুন্দরপুর অর্থাৎ ৭টি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ৫টি অর্থাৎ দূর্লভপুর,পাঁকা,মনাকষা,উজিরপুর ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলে পদ্মার পানি প্রবেশ করে নিমজ্জিত,অর্ধনিমজ্জিত ও আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে হাজার হাজার বিঘা ফসলী জমি ও বাগান। পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে রয়েছে প্রথমিক,মাধ্যমিক, কিন্ডারগার্টেন বিদ্যলয়,বিভিন্ন ধরণের মাদ্রাসা ও কলেজ। গ্রামীন সড়কে পানি উঠে চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি। মহানন্দার পানি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কিছু অঞ্চল ও সদরের বারঘরিয়া ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলে প্রবেশ করেছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনের পর জানিয়েছেন,দুই উপজেলায় পদ্মার পানিবৃদ্ধিজনিত কারণে অন্তত: ৯ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছেন। পানিবন্দী ও পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত: ৫৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের চারদিকে পানি থাকলেও পাঠদান বন্ধ হয় নি। এছাড়া আক্রান্ত সকল ইউনিয়নে কৃষি ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হলেও মানুষ পানিবন্দি হয় নি।
পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী এস,এম,আহসান হাবীব বলেন,উজানে ভারত থেকে ধেয়ে আসা পানি ও বৃষ্টিপাতের কারণে পানি বেড়ে সতর্কসীমায় পৌঁচেছে। ভারতে গঙ্গা সকল পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তবে আশা করা হচ্ছে পনি আর বাড়বে না। কমতে শুরু করবে।বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এখনও বন্যার পূর্বাভাস দেয় নি বলেও জানান প্রকৌশলী আহসান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদ্প্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন,শুক্রবার পর্যন্ত মূলত পদ্মার কারণে সদর ও শিবগঞ্জ, মহানন্দার কারণে জেলার সকল অর্থাৎ ৫টি উপজেলা এবং পুণর্ভবার কারণে গোমস্তাপুরে প্রায় ১৭ হাজার বিঘা ফসলী জমি (আড়াই হাজার হেক্টর) বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান,ভূট্টা,সব্জি,হলুদ,কলা,পেঁয়াজের বীজতলা ইত্যাদি।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দি। অন্তত: ১৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ। গত বুধবার (১৩আগষ্ট) থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। এটি অব্যহত থাকবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আজাহার আলী বলেন, অন্তত: সাড়ে ৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি। অন্তত: ৪৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ । ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। ৭৮৭ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। গবাদিপশু চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখনও কোন আশ্রয় কেন্দ্র চালু করতে হয় নি।