নারী ফুটবলে বাংলাদেশের উত্থান এখন কেবল স্বপ্ন নয়, বাস্তবতার নাম। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের সূচনাতেই রীতিমতো ঝড় তুলে নজির গড়েছে লাল-সবুজের মেয়েরা। ফিফা র্যাংকিংয়ে ৩৬ ধাপ এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষ বাহরাইনকে ৭-০ গোলের ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে নিজেদের বাছাই পর্বে জয় দিয়ে শুরু করল বাংলাদেশ নারী দল।
রোববার (২৩ জুন) মিয়ানমারের ইয়াংগুনে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘সি’ এর প্রথম ম্যাচেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল টাইগ্রেসরা। প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে দারুণ দাপট দেখায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল যোগ করে ম্যাচের স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭-০ তে।
এই জয়ের মাধ্যমে নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে প্রথমবারের মতো জয়ের মুখ দেখল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এর আগে টানা দুই আসরে কোনো জয় না পাওয়া লাল-সবুজ জার্সিধারীরা এবার তৃতীয় প্রচেষ্টাতেই রেকর্ড গড়া এক জয় তুলে নিলো।
ম্যাচের শুরুতেই স্পষ্ট ছিল বাংলাদেশের আধিপত্য। ১০ মিনিটেই গোলের সূচনা করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। এরপর একে একে গোলের তালিকায় নাম লেখান ঋতুপর্ণা চাকমা, তহুরা খাতুন (২টি), কোহাতি কিসকু এবং বদলি খেলোয়াড় মুনকি আক্তার। একটি গোল আসে বাহরাইনের আত্মঘাতি থেকে।
মাঠে অসাধারণ বোঝাপড়ায় ও দ্রুত পাসে প্রতিপক্ষকে ছিটকে দিয়েছিল আফিফা-মনিকারা। বিশেষ করে তহুরা-ঋতুপর্ণা-শামসুন্নাহারের আক্রমণত্রয়ীর সামনে অসহায় দেখিয়েছে বাহরাইনের রক্ষণভাগকে।
দলের এই দাপুটে জয়ের নেপথ্যে রয়েছে প্রধান কোচ পিটার বাটলারের নিখুঁত পরিকল্পনা। আক্রমণাত্মক মিডফিল্ড নিয়ে গড়া দল মাঠের প্রতিটি প্রান্তে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। বাম প্রান্তে ঋতুপর্ণা, ডানে শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মাঝখানে তহুরাকে রেখে আক্রমণে ধার বাড়ান তিনি।
৬৬ মিনিটে একসাথে তিনটি পরিবর্তন এনে আরও গতি আনেন খেলায়। মাঠ ছাড়েন শামসুন্নাহার জুনিয়র, মনিকা চাকমা ও স্বপ্না রানী। তাঁদের স্থানে আসেন সাগরিকা, মুনকি আক্তার ও শাহেদা আক্তার রিপা।
যদিও ৭-০ ব্যবধানের জয় অনেক বড় ও ঐতিহাসিক, তবু পয়েন্ট টেবিলে এখনো শীর্ষে ওঠা হয়নি বাংলাদেশের। কারণ একই দিনে গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্বাগতিক মিয়ানমার ৮-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তুর্কমেনিস্তানকে।
ফলে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে সামনে আরও দুটি ম্যাচ হাতে থাকায় গ্রুপ সেরা হওয়ার সম্ভাবনা এখনো উজ্জ্বল।
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ২৭ জুন তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে। এরপর ৩০ জুন মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মিয়ানমারের সঙ্গে, যা হবে গ্রুপসেরা নির্ধারণের লড়াই।
বাংলাদেশ নারী দলের এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং এটি দেশীয় নারী ফুটবলের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বাহরাইনের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বড় জয় প্রমাণ করে দিয়েছে—বাংলাদেশ এখন আর উদীয়মান নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে গেছে।
হাইলাটস
ফিফা র্যাংকিংয়ে বাহরাইনের চেয়ে ৩৬ ধাপ পিছিয়েও বাংলাদেশ জিতল ৭-০ ব্যবধানে
তহুরা খাতুনের জোড়া গোল, একাধিক খেলোয়াড়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স
নারী এশিয়ান কাপে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম জয়
কোচ বাটলারের কৌশলে পূর্ণ সফলতা
গোল ব্যবধানে পিছিয়ে আপাতত দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ