শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬

ধর্ষণ মামলার আসামি গায়ক নোবেলের সঙ্গে বাদীর কারাগারে বিয়ের অনুমতি দিল আদালত

  • বিনোদন ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-১৯ ০১:৩১:৫৫
ফাইল ছবি

গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ, নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত মামলায় নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ইডেন মহিলা কলেজের এক সাবেক ছাত্রী কর্তৃক করা মামলার প্রেক্ষাপটে বর্তমানে কারাবন্দি নোবেলের সঙ্গে সেই বাদীর বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। উভয় পক্ষের সম্মতি থাকায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে বিয়ের আয়োজন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
বুধবার (১৮ জুন) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এই আদেশ দেন। আদালতে নোবেলের আইনজীবী এক আবেদন করে বলেন, নোবেল ২০ মে থেকে কারাগারে রয়েছেন। বাদী ও আসামির মধ্যে ব্যক্তিগত ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলাটি হয়েছিল এবং এখন উভয়েই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে ইচ্ছুক। সে প্রেক্ষিতে আদালতের অনুমতি চাওয়া হয় যেন কারাগারেই তাদের কাবিননামা সম্পন্ন করা যায়।
শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। আদালত আরও বলেন, বিয়ে সম্পাদনের বিষয়টি লিখিতভাবে আদালতকে অবহিত করতে হবে।
এর আগে ১৯ মে গভীর রাতে রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার নিজ বাসা থেকে নোবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধর্ষণের অভিযোগে ইডেন কলেজের ওই সাবেক শিক্ষার্থীর দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, বাদিনীকে বিভ্রান্ত করে নিজের বাসায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করেন নোবেল। এতে সহায়তা করে নোবেলের পরিচিত আরও ২–৩ জন ব্যক্তি।
বাদীর অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, ঘটনার পর ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে তিনি দীর্ঘদিন নীরবে সবকিছু সহ্য করেন। ভিডিওটি পরবর্তীতে ভাইরাল হলে তার পরিবার বিষয়টি জানতে পারে এবং জাতীয় জরুরি সেবার সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
নোবেলকে পরদিন ২০ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানায় তদন্ত কর্মকর্তা। অপরদিকে নোবেলের আইনজীবী জামিন চাইলেও বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এই মামলাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ এবং পরবর্তী ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় নোবেলের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা উঠে। তবে হঠাৎ করে বাদী ও আসামির মধ্যে বিয়ে ইচ্ছার বিষয়টি সামনে আসায় আইনি, নৈতিক এবং সামাজিক নানা প্রশ্ন উঠেছে।
আইনজীবীরা বলছেন, ধর্ষণের অভিযোগের মতো গুরুতর অপরাধে বাদী-আসামির বিয়ে কোনোভাবেই অপরাধকে অস্বীকার করে না। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী চলবে—বিয়ের কারণে তা বন্ধ হওয়ার কথা নয়।
ধর্ষণ মামলা থেকে বাদীর সাথে আসামির বিয়ে করতে চাওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশে বিরল নয়, তবে বিতর্কিত। নোবেলের মতো একজন পরিচিত শিল্পীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এবং সেই প্রেক্ষিতে কারাগারে বসে বিয়ের নির্দেশনা—এই ঘটনা বহু প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কীভাবে এবং কবে এই বিয়েটি সম্পন্ন হয় এবং এর প্রভাব মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে কতটা পড়ে।

সূত্র: বাসস, আদালত নথি, নিজস্ব অনুসন্ধান


এ জাতীয় আরো খবর