রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬

শ্রীবরদীতে পুকুরে দুই শিশুর লাশ: দুর্ঘটনা নাকি রহস্যজনক মৃত্যু? তদন্তে পুলিশ

  • নিজস্ব প্রতিনিধি,
  • ২০২৫-০৬-১৮ ১২:১৪:৪৩
ছবি সংগৃহিত

শ্রীবরদী, শেরপুর:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় একটি মৎস্য খামারের পুকুর থেকে নিখোঁজ দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর বুধবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের বটতলা মৃদাবাড়ি এলাকার ওই পুকুরে লাশ দুটি ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা।
নিহত শিশু দুজন হলো-মো. সেলিম মিয়ার মেয়ে সকাল আক্তার (৭) ও স্বপন মিয়ার মেয়ে স্বপ্না খাতুন (৬)। তারা একই এলাকায় বসবাস করত এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর থেকে সকাল ও স্বপ্নাকে খুঁজে পাচ্ছিল না তাদের পরিবার। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী মিলে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে শেষমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করে সহায়তা চাওয়া হয়।
বুধবার সকাল ৭টার দিকে একটি মৎস্য প্রকল্পের পুকুরে স্থানীয়রা হঠাৎ দুই শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে শ্রীবরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর এলাকায় শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। অনেকেই এই মৃত্যুকে নিছক পানিতে পড়ে যাওয়া নয়, বরং রহস্যজনক মৃত্যু বলে সন্দেহ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন- “শিশু দুটির বাড়ি থেকে এই পুকুর অনেক দূরে। এখানে তারা কেন আসবে? আরও বড় কথা, মাসখানেক আগেও এই একই পুকুরে এক যুবকের মরদেহ পাওয়া যায়, যেটা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলে এলাকাবাসীর ধারণা।”
অনেকে অভিযোগ করছেন, মাছের প্রজেক্টটির মালিকপক্ষ আগেও নানা অনিয়মে জড়িত ছিল এবং এর নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
শ্রীবরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন- “আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।”

পুলিশের তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে:
শিশু দুটি স্বেচ্ছায় পুকুরে গিয়েছিল, না কি কেউ নিয়ে গিয়েছিল?
তাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না?
আগের ‘রহস্যজনক মৃত্যু’র সঙ্গে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি?

এদিকে শিশুদের পরিবার পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছে।
সকাল আক্তারের বাবা সেলিম মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন- “আমার মেয়ে ঘরে খেলছিল। কীভাবে কোথায় গেল, বুঝতেই পারিনি। আমরা কারও সঙ্গে শত্রুতা করি না। আমার মেয়ের কী দোষ ছিল?”
দুই শিশুর মৃত্যুর পর থেকে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একইসঙ্গে এলাকাবাসীর মাঝে তৈরি হয়েছে শঙ্কা ও ক্ষোভ। শিশুরা আর নিরাপদ নয়-এই উপলব্ধি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সবাইকে।
দুই নিষ্পাপ শিশুর রহস্যময় মৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা সমাজকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। কোনো অসতর্ক মুহূর্তের মর্মান্তিক পরিণতি, না কি গভীর ষড়যন্ত্র-এই প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে পুলিশের সঠিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর। তবে ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের আস্থায় ভাটা পড়তে শুরু করেছে।


তথ্যসূত্র: স্থানীয় পরিবার, পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী


এ জাতীয় আরো খবর