হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর শহরের গরুবাজার সংলগ্ন মসজিদ মার্কেটে মঙ্গলবার (১৭ জুন) গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে পানের আড়ৎ, মনোহারি পণ্যের গোডাউন, কসমেটিকস দোকান ও টেইলার্সসহ বহু মালামাল ভস্মীভূত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, এ ঘটনায় তাদের কোটি টাকার সম্পদ হারিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, দিনভর বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে ওই দিন দোকানপাট অন্যান্য দিনের তুলনায় একটু আগেই বন্ধ হয়ে যায়। গভীর রাতে হঠাৎ করেই মার্কেটের ভেতর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান আশপাশের বাসিন্দারা। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
তারা দ্রুত ঘটনাটি ফায়ার সার্ভিসকে জানায়। রাতেই হালুয়াঘাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। কিছুক্ষণ পর ফুলপুর ফায়ার সার্ভিস ইউনিট এসে অভিযানে যোগ দেয়।
প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় দুই ইউনিটের কর্মীরা একসঙ্গে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে বেশিরভাগ দোকানই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল-
দুটি পানের আড়ৎ
দুটি মনোহারি দোকানের স্টোররুম
একটি কসমেটিকস সামগ্রীর দোকান
তিনটি দর্জি দোকান
একটি মুদি পণ্যের দোকান
ভোররাতে মার্কেট চত্বরে ছুটে আসেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। আগুন নিভলেও জ্বলন্ত গন্ধ আর ধোঁয়ার ভেতর দাঁড়িয়ে অনেকেই ভেঙে পড়েন কান্নায়।
মনোহারি দোকানের মালিক হেলাল উদ্দিন বলেন: “এই দোকানটাই আমার জীবনের মূলধন ছিল। সব পুড়ে শেষ। কিছুই বাঁচেনি। অন্তত ১৫ লাখ টাকার পণ্য ছিল স্টকে।”
টেইলার্স মালিক শামসুল আলম বলেন: “ঈদের অর্ডার ছিল অনেক। অনেক গ্রাহকের জামা-প্যান্ট তৈরি হচ্ছিল। সব পুড়ে ছাই। আমি এখন কারও মুখ দেখাতে পারব না।”
ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. মানিক মিয়া জানান, “দুটি ইউনিট একসঙ্গে অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে আগুন কোথা থেকে লাগলো, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে—বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।”
তবে আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদ মার্কেটটি পুরোনো এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা একেবারেই নেই বললেই চলে। অধিকাংশ দোকানে আগুন প্রতিরোধের কোনও প্রস্তুতিও ছিল না। এছাড়া বাজারের তারগুলো ছিল এলোমেলো ও ঝুলে থাকা অবস্থায়, যা শর্টসার্কিটের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে।
ঘটনার পরপরই হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, “ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। কেউ যাতে পুরোপুরি পথে না বসে, সে বিষয়ে প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।”
একটি বৈদ্যুতিক ত্রুটি কীভাবে নিমিষেই জীবন-জীবিকা ধ্বংস করতে পারে, তার নির্মম প্রমাণ হয়ে থাকল হালুয়াঘাটের মসজিদ মার্কেটের এই অগ্নিকাণ্ড। এই ঘটনায় শুধুই আর্থিক ক্ষতি নয়, ঈদ ঘিরে আশাবাদী অনেক ব্যবসায়ীর জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। সময় এসেছে, বাজার ও মার্কেটগুলোতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার।
ছবি ও তথ্যসূত্র: স্থানীয় ব্যবসায়ী, ফায়ার সার্ভিস, ইউএনও অফিস