মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

মধ্যরাতে আকাশে আগুন:ইরান-ইসরায়েল পাল্টা হামলায় উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য,হ্যাকড ডোম, ধ্বংস তেল পরিশোধনাগার

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
  • ২০২৫-০৬-১৭ ১৩:০৭:৪৭
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা-১৭ জুন ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ সোমবার রাতের পর আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয় সময় রাতে তেল আবিব, হাইফা ও জেরুজালেমের আকাশে ছুটে চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র, আর ইসরায়েল জবাব দেয় বিমান হামলা ও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে।
এই সংঘাতের এক ভয়াবহ দিক হলো, ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আইরন ডোম হ্যাক হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি গণমাধ্যম। ফলে ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়, যার মধ্যে অন্যতম ছিল হাইফার তেল পরিশোধনাগার।
ইসরায়েলের বন্দর শহর হাইফায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বাজান গ্রুপ পরিচালিত বৃহৎ তেল পরিশোধনাগার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় বেশ কয়েকজন কর্মী হতাহত হয়েছেন এবং পরিশোধন কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সেই সঙ্গে হাইফার বেসামরিক এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। শহরের আকাশে একাধিকবার সাইরেন বাজতে শোনা গেছে।
পাল্টা জবাবে, তেহরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলার সময় একটি সংবাদ প্রচার চলছিল, তখনই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে স্টুডিও। আতঙ্কিত উপস্থাপিকা লাইভ সম্প্রচার থামিয়ে নিরাপদে সরে যেতে বাধ্য হন। ভবনটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আই.আর.এন.এ দাবি করেছে, তাদের সাইবার ইউনিট ইসরায়েলের আইরন ডোমকে সফলভাবে হ্যাক করে। ফলে ইরানের একাধিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
তেল আবিবে একটি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র মাটিতে আছড়ে পড়ে, এতে আরও ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয় জনমনে।
ইরান দাবি করেছে, তাবরিজ অঞ্চলে তারা ইসরায়েলের একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। একই সময় বিয়ার শেভা এলাকায় ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রকেও নিশানা বানানো হয়।
যদিও ইসরায়েল এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি, তবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর চারপাশে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করলে সংঘাত বন্ধ হয়ে যাবে। তার এই মন্তব্যকে যুদ্ধ উস্কানির পরিপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছে তেহরান।
অপরদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনিকে হত্যার প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছেন। তবে তিনি ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, “ইরান যদি দ্রুত পারমাণবিক চুক্তিতে না আসে, তাহলে তেহরানের বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে দেওয়া উচিত।”
ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা যুদ্ধের পরিধি বাড়াতে চাই না। তবে আমাদের ভূখণ্ডে যে কোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে কূটনীতির ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ২০২৫ সালের সবচেয়ে বিপজ্জনক সামরিক উত্তেজনা, যা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পুনর্গঠনের পথে নিয়ে যেতে পারে।
জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়া-তিন পক্ষই তাত্ক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দুই দেশের কোনো পক্ষই সংঘর্ষ থামানোর লক্ষণ দেখায়নি।
মধ্যরাতের আগুন এখন কূটনৈতিক টেবিলেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের এই অধ্যায় শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এক জটিল বিপর্যয়ের দিকেই যাচ্ছে
পরবর্তী ধাপ কী হবে-আন্তর্জাতিক মহল এখন সেই দিকেই তাকিয়ে।

 বিশ্ব পরিস্থিতির তাজা আপডেট ও বিশ্লেষণ জানতে চোখ রাখুন “সকালের আলো ডট কম”-এ।
সংঘাত নয়, শান্তিই হোক ভবিষ্যৎ।


এ জাতীয় আরো খবর