রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬

যমুনা সেতু মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট: ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ চরমে

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৬-১৫ ১৩:৩৭:৪০
ছবি সংগৃহিত

টাঙ্গাইল, ১৫ জুন ২০২৫
ফিরতি ঈদযাত্রা শুরু হতেই যমুনা সেতুর ওপর একের পর এক দুর্ঘটনা, গাড়ি বিকল এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে নেমেছে যানজটের দুর্যোগ। রোববার সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে ১৭ থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তির চিত্র মিলে পুংলি থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত পুরো সড়কজুড়ে। ধীরগতির এ তীব্র যাত্রায় অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছেন, কোথাও কোথাও বাস থেকে নামতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।
পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সেতুর ওপর ৬টি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে, যেগুলো সরাতে সময় লেগে যায় দীর্ঘক্ষণ। এরই মধ্যে রোববার সকাল ৭টার দিকে সেতুর ওপর একসঙ্গে চারটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে কয়েক দফায় টোল আদায় বন্ধ রাখতে হয়, যা যানজটকে আরও তীব্র করে তোলে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, “বিকল গাড়ি ও একাধিক দুর্ঘটনার কারণে যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। সেতুতে গাড়িগুলোর গতি একেবারে কমে গেছে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকাগামী যানবাহনের গতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও উত্তরবঙ্গগামী লেন সম্পূর্ণভাবে ধীরগতিতে চলছে। কোথাও কোথাও গাড়ি ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার বেগেও চলছে না।
স্থানীয়রা জানান, “এমন যানজট সাধারণত ঈদের সময়ই হয়, তবে এবারেরটা যেন আগের চেয়েও ভয়াবহ। অনেক গাড়ি সেতুর ওপরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে।”
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ শরীফ বলেন, “আমাদের সদস্যরা ২৪ ঘণ্টাই মাঠে কাজ করছে। কিন্তু দুর্ঘটনা ও গাড়ি বিকলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় যানজট দ্রুত নিরসন করা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও জানান, ধীরে ধীরে গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ট্র্যাফিক ফ্লো স্বাভাবিক করতে বিকল্প পন্থাও ভাবা হচ্ছে।
দীর্ঘ যানজটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা। অনেকে বাস থেকে নেমে হেঁটে রওনা দিয়েছেন সেতুর দিকে, কেউ কেউ খাবার কিংবা পানির জন্য রাস্তার পাশের দোকানে ভিড় করছেন। চিকিৎসা সহায়তা না থাকায় অসুস্থ রোগীদের জন্য সৃষ্টি হয়েছে চরম সংকট।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ঈদের সময় প্রত্যাশিত যানবাহনের চাপ সামলাতে যমুনা সেতুর টোল ম্যানেজমেন্ট ও ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের কোনো বিকল্প কৌশল না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিকল গাড়ি দ্রুত সরানোর মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার জন্য প্রতি বছরই নানা উদ্যোগের কথা শোনা যায়। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো-দুর্ঘটনা, বিকল যান ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় মানুষের যাত্রাপথ হয়ে উঠছে দুর্বিষহ।
একের পর এক দুর্ঘটনা, বিকল গাড়ি এবং টোল আদায়ের অকার্যকর ব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে যমুনা সেতু এখন ঈদযাত্রার সবচেয়ে বড় "বাধা সেতু" হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর