আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী গ্রেটা থানবার্গকে ইসরায়েল থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে তিনি ফ্রান্স হয়ে নিজ দেশ সুইডেনে ফিরে যান। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
থানবার্গসহ আরও ১১ জন আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মী "ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন" পরিচালিত ‘ম্যাডেলিন’ নামের একটি ত্রাণবাহী ইয়টে করে ইসরায়েলের সামুদ্রিক অবরোধ ভেঙে গাজার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। জাহাজটি সোমবার রাতে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে পৌঁছালে যাত্রীদের আটক করা হয়।
ইসরায়েলে আটক ১২ জনের মধ্যে ছয়জন ফরাসি নাগরিক। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন স্বেচ্ছায় ইসরায়েল ছাড়তে রাজি হলেও বাকি পাঁচজন নির্বাসন আদেশে স্বাক্ষর না করায় তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এই পাঁচজনকে তেল আবিবের রামলেত এলাকার একটি বন্দিশিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
যদিও ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশ করেনি, বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে-
আটক ছয় ফরাসির মধ্যে রয়েছেন:
রিমা হাসান, ফরাসি সংসদ সদস্য ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত অধিকারকর্মী
ওমর ফাইয়াদ, আল জাজিরার সাংবাদিক
ইয়ানিস মাহদি, ফরাসি অনলাইন প্রকাশনা ব্লাস্টের সাংবাদিক
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, ইসরায়েলের নৌ-নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধ আইন লঙ্ঘন করা।
এই মানবিক মিশনে অংশ নিয়েছিলেন ৭টি দেশের নাগরিকরা-
সুইডেন, ফ্রান্স, ব্রাজিল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন এবং তুরস্ক।
গ্রেটা থানবার্গ ছাড়াও বেশ কয়েকজন পরিচিত অধিকারকর্মী ও চিকিৎসক এই যাত্রায় ছিলেন।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা নির্বাসনে রাজি হননি, তাদের আইনানুগভাবে বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড থেকে নির্বাসনের অনুমোদন চাওয়া হবে।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপকে 'অমানবিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উভয়ই এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং অবরোধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবিক মিশনে বাধা দেওয়াকে মানবিক নীতিমালার লঙ্ঘন বলেছে।
গ্রেটা থানবার্গের ইসরায়েল ছাড়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সুইডেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক চাপে ইসরায়েল দ্রুত তাঁকে ফেরত পাঠায়,যাতে আন্তর্জাতিক সমালোচনা এড়ানো যায়।
ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীদের এই গ্রেপ্তার ও নির্বাসন নতুন করে ইসরায়েলি অবরোধ নীতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
গ্রেটা থানবার্গের ফেরত যাওয়া একটি পর্বের সমাপ্তি হলেও, মানবিক মিশন ও নীতির দ্বন্দ্ব এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।