মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

ভারতে ফের বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, ওমিক্রনের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ছড়াচ্ছে ভয়

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
  • ২০২৫-০৬-১০ ১২:২২:২৩
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা, ১০ জুন ২০২৫
ভারতে আবারও করোনাভাইরাস সংক্রমণের উর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, সোমবার (৯ জুন) একদিনেই ৩৫৮ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে ভারতে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৯১ জনে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কেরালা রাজ্যেই সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা দেখা গেছে। সেখানে সক্রিয় আক্রান্ত সংখ্যা ১,৯৫৭ জনে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গুজরাট (৯৮০), আর তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে পশ্চিমবঙ্গ (৭৪৭) এবং দিল্লি (৭২৮)।
দিল্লিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ জন
পশ্চিমবঙ্গে নতুন শনাক্ত ৫৪ জন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশজুড়ে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬৫ জনের-যা উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার একটি পর্যালোচনা সভা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজ্যের জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন-
“কোভিড নামটা শুনলেই ভয় পেয়ে যাই আমরা। তবে রাজ্যের পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মানুষকে সচেতন থাকতে হবে, কিন্তু অযথা আতঙ্ক ছড়ানো যাবে না।”
তবে তিনি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সাম্প্রতিক করোনা সংক্রমণের পেছনে রয়েছে ওমিক্রনের বেশ কয়েকটি উপ-ভ্যারিয়েন্ট, যেগুলো তুলনামূলকভাবে দ্রুত সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে:

JN.1
NB.1.8.1
LF7
XFC

এই ভ্যারিয়েন্টগুলোর সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি হলেও, লক্ষণ তুলনামূলকভাবে হালকা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্তদের মধ্যে জ্বর, গলা ব্যথা ও হালকা কাশি দেখা যাচ্ছে।
WHO জানিয়েছে, এই ভ্যারিয়েন্টগুলোকে "ভ্যারিয়েন্টস আন্ডার মনিটরিং" (VUM) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ এখনও এগুলোর কারণে বিশ্বজুড়ে উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়নি, তবে ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোয়া এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলা এই মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। তারা বয়স্ক ও কো-মরবিডিটি থাকা ব্যক্তিদের জন্য বুস্টার ডোজ নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।
করোনা যেন আগুনের নিচে চাপা পড়ে থাকা কয়লার মতো, মাঝে মধ্যেই হঠাৎ জ্বলে উঠছে। ভারত সেই বাস্তবতাকেই আবারও অনুভব করছে। এ অবস্থায় ভারত সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণার জোরালো দাবি উঠেছে।

সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন। হালকা উপসর্গেও অবহেলা নয়।

 


এ জাতীয় আরো খবর