শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬

ফ্রেঞ্চ ওপেনে নতুন রানির অভ্যুদয়:সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন কোকো গফ

  • স্পোর্টস ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৬-০৮ ০০:১৬:৩০
ছবি সংগৃহিত

প্যারিসের ফিলিপে শাত্রিয়ের কোর্টে ১৫ হাজার দর্শকের সামনে শনিবার রাতটা হয়ে রইলো টেনিসের মহাকাব্যিক এক সন্ধ্যা। নারী এককের ফাইনালে দুই তারকা-বিশ্বসেরা আরিনা সাবালেঙ্কা এবং আমেরিকান সেনসেশন কোকো গফ-উপহার দিলেন এমন এক লড়াই, যা শুধু স্কোরবোর্ডে নয়, দর্শকের হৃদয়েও চিরস্থায়ী ছাপ রেখে গেল।
গভীর নাটকীয়তা আর টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে শেষ হাসি হাসলেন ২১ বছর বয়সী কোকো গফ। তিন সেটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে তিনি হারালেন বেলারুশের বিশ্ব এক নম্বর সাবালেঙ্কাকে। ৭-৬ (৭-৫), ২-৬, ৬-৪ গেমে জিতে গফ নিজের নাম লেখালেন রোলাঁ গ্যারোর ইতিহাসে।
প্রথম সেটেই শুরু হয় নাটকীয়তা। একসময় ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন সাবালেঙ্কা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে। কিন্তু গফ হাল ছাড়েননি। একের পর এক পয়েন্টে লড়াই করে ম্যাচ ফিরিয়ে আনেন টাইব্রেকারে। যদিও শেষমেশ প্রথম সেটটি টাইব্রেকে ৭-৫ ব্যবধানে জিতে নেন সাবালেঙ্কা, তবু গফের প্রত্যাবর্তনের গল্প শুরু হয়ে যায় এখান থেকেই।
দ্বিতীয় সেটে গফ যেন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেন। দৃঢ় মনোবল, নিখুঁত ফোরহ্যান্ড আর চওড়া কোর্ট কাভারেজে তিনি দমিয়ে দেন সাবালেঙ্কাকে। একের পর এক আনফোর্সড এররে ভেঙে পড়তে থাকেন সাবালেঙ্কা, আর গফ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬-২ গেমে সেটটা নিজের করে নেন।
তৃতীয় ও নির্ধারক সেটে দুই খেলোয়াড়ই ছিলেন চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। কিন্তু গফের কনসিস্টেন্সি আর মনের জোর ছিল অটুট। তিনি সাবালেঙ্কার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এক পর্যায়ে ৪-৩ গেমে লিড নেন। শেষে ৬-৪ গেমে সেট এবং ম্যাচ জিতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি নিজের করে নেন গফ।
ম্যাচ শেষেই কোর্টে লুটিয়ে পড়েন তিনি। চোখে জল, মুখে হাসি-এ যেন একসঙ্গে যুদ্ধ জয় এবং স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত। দৌড়ে ছুটে যান গ্যালারিতে থাকা মা-বাবার কাছে। ২০২২ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনালে হেরে যাওয়া সেই কিশোরী এবার রোল্যাঁ গ্যারোর রানির মুকুট পরে ফিরলেন।
২০২২: ফ্রেঞ্চ ওপেন রানার-আপ
২০২৩: ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন
২০২৫: ফ্রেঞ্চ ওপেন চ্যাম্পিয়ন

এই জয়ে কোকো গফ নারী টেনিসের ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমানও তিনি-এ কথাই যেন বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিলেন।
সাবালেঙ্কা হয়তো বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর, কিন্তু এই ম্যাচে গফ প্রমাণ করলেন, নম্বর নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো বড় ম্যাচে স্থিরতা ও সাহস। মাত্র ২১ বছর বয়সেই তার মস্তিষ্কে পরিণত প্লেয়ারদের মতো ম্যাচ ম্যানেজমেন্ট-এটাই তার বড় সম্পদ।

বিশেষ বিশ্লেষণ:
এই ম্যাচ শুধুই ফাইনাল নয়, ছিল মানসিক দৃঢ়তা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আত্মবিশ্বাসের শ্রেষ্ঠ উপস্থাপন। গফের এই জয় শুধু ফ্রেঞ্চ ওপেন ট্রফিই নয়, নতুন প্রজন্মের নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণা।


এ জাতীয় আরো খবর