শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬

ইতিহাসে নতুন পাতার সূচনা: ম্যানসিটিকে হারিয়ে এফএ কাপ চ্যাম্পিয়ন ক্রিস্টাল প্যালেস

  • ক্রীড়া ডেস্ক
  • ২০২৫-০৫-১৮ ১৩:৪৮:৩৭
ছবি সংগৃহিত

একটি ক্লাব, যার অধিকাংশ সময়ই কেটেছে ইংলিশ ফুটবলের মধ্যম সারিতে—শেষমেশ তাদের স্বপ্নজয়। ওয়েম্বলির আলো ঝলমলে সন্ধ্যায় ফুটবল ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে নাম লেখালো ক্রিস্টাল প্যালেস। প্রথমবারের মতো তারা জিতল এফএ কাপ, আর তাও আবার ম্যানচেস্টার সিটির মতো দুর্দান্ত প্রতিপক্ষকে ১-০ গোলে পরাজিত করে।
ম্যাচের ১৬ মিনিটেই পাল্টে যায় খেলার রং। প্যালেসের ইংলিশ ফরোয়ার্ড ইবেরেচি এজে অর্ধবৃত্তের ঠিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক ভলিতে বল জালে পাঠান। গোলের পর প্যালেস যেন ধরে রাখে এক অটুট বিশ্বাস-আজ তাদের দিন, আজই ইতিহাস গড়তে হবে।
গোটা ম্যাচে সিটির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। কেভিন ডি ব্রুইনার পাস, হালান্ডের শট, গভার্দিওলের হেড-সবই রুখে দেন ডিন হেন্ডারসন। এমনকি ওমর মারমুশের নেওয়া পেনাল্টি শটটিও ঠেকিয়ে দেন সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই গোলরক্ষক।
ম্যাচ শেষে আত্মবিশ্বাসী হেন্ডারসন বলেন, “আমরা জানতাম, এই ম্যাচটা আমাদের। আমি নিশ্চিত ছিলাম মারমুশ কোন দিকে শট নেবে। সেটাই হয়েছে।”
১৯৯০ ও ২০১৬ সালে ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর, এ ছিল প্যালেসের তৃতীয় ফাইনাল। তৃতীয় বারেই ভাগ্য বদলালো। আর দলের কোচ অলিভার গ্লাসনার হয়ে গেলেন প্রথম অস্ট্রিয়ান কোচ যিনি এফএ কাপ জিতলেন।
ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এটি ছিল টানা দ্বিতীয় এফএ কাপ ফাইনাল হার। ২০১৬-১৭ মৌসুমের পর এবারই প্রথমবার তারা কোনো ঘরোয়া ট্রফি ছাড়াই মৌসুম শেষ করল।
অন্যদিকে প্যালেস ভক্তদের চোখে জল, কণ্ঠে গর্জন-‘গ্ল্যাড অল ওভার’। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ওয়েম্বলিতে উৎসবের বিস্ফোরণ।
ইবেরেচি এজে, যিনি এক সময় আর্সেনালসহ একাধিক ক্লাবের ‘না’ শুনেছেন, তিনিই আজ প্যালেস ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত এজে বলেন,
“এটা আমাদের স্বপ্নপূরণ। কেউ বিশ্বাস করেনি, কিন্তু আমরা পেরেছি। আজ আমরা ইতিহাস গড়েছি।”

 


এ জাতীয় আরো খবর