"সম্পর্কে মরিচা ধরলেও, ভালোবাসা থাকে সজীব,"
একথা তো তুই বলতিস বারবার ।
"আমাদের ভালোবাসা কিভাবে লেখা হবে
ঐ ছোট্ট একটা কলমে ?
সে কিভাবে বুঝবে আমাদের প্রেম, প্রথম ভালোলাগা,
সে যে বিরাট এক ইতিহাস!
কত ভুল বোঝাবুঝি ,মান- অভিমান, জমাট বাধা যন্ত্রণা
শহরের রাস্তায়, অথবা অলিতে, গলিতে ,
তোর, আমার বিশেষ মুহূর্তগুলো,
ঝরা পাতার মত কুড়িয়ে এনে জমিয়ে রেখেছি এ বুকে ।
এ শুধু একান্ত আমার, আমাদের ,বড় ব্যক্তিগত,
কলম কিভাবে জানবে সে কথা ?
তুই তো কখনো বিরহের কবিতা লিখতিস না।
তাহলে কি বদলে গিয়েছিস তুই ?
তোর কলম কেন রক্ত ঝরায় আজ ?
আমাদের ভালো লাগার মুহূর্ত গুলো ,
সে যে শুধু আমাদের ছিল,একান্ত ব্যক্তিগত,
তা আর কারো জানার নেই কোন অধিকার।
ভুল ভাবছিস তুই, আমি বদলাইনি একটুও
সেদিন হঠাৎ করে ডাইরির ভাঁজে খুঁজে পেলাম তোর চিঠিটা,
আমাকে লেখা তোর প্রথম চিঠি ,
তাই পুরনো সময়ে ফিরে যেতে ইচ্ছে হলো আর একবার,
সেই পুরনো রাস্তার বাঁকে, বাসন্তী রঙের শাড়িতে
তোর সাথে আমার প্রথম দেখা।
প্রথম শাড়ি, প্রথম প্রেম, বুকে প্রথম মোচড় লাগা।
আজও খুঁজে ফিরি সেই তুইটাকে, যার ছোঁয়ায় আবার
বদলে নিতে ইচ্ছে করে নিজেকে---
সেদিনের কত অর্থহীন শব্দের কারিকুরি,
অকারণ হাসির ঝিলিক,অথবা অভিমানের অশ্রুবারি;
" মায়াবী নয়, মানবী আমি, ছুঁয়ে দেখো একবার"
এমন অজস্র শব্দমালায় ,সাজানো তোর প্রথম চিঠি,
আজও আনমনা করে দেয় আমায়।
তবুও দেখ আজ আমি বড় একা,বড় নিঃসঙ্গ,
দিনশেষে বিষন্ন মেঘের চাদরে মোড়া এক বাস্তব ।
অথচ তোর পাশে মায়ার আঁচলে জড়ানো তোর বর্তমান
এই শেষের যে আর কোন শুরু নেই, নেই ভবিষ্যৎ।
তাই আমার কলম আজ বিষন্ন, অবসাদে হেরে যাওয়া,
প্রতি মুহূর্তে মৃত্যু আর তুই একাকার হয়ে মিশে যাওয়া, অসমাপ্ত এক ছবি,-----
আমি যে হেরে যাওয়া নামহীন এক কবি।