রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

শুল্কযুদ্ধে ৯০ দিনের বিরতি: চীন-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় বিশ্ববাজারে স্বস্তির ছায়া

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৫-১২ ১৪:৩০:২৫
ছবি সংগৃহিত

১২ মে, সোমবার-দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে উত্তেজনার অন্যতম উৎস হয়ে থাকা চীন-যুক্তরাষ্ট্র শুল্কযুদ্ধে অবশেষে একচিলতে স্বস্তি ফিরেছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দু’পক্ষ আগামী ৯০ দিনের জন্য পারস্পরিক আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। শুল্ক হ্রাসের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজার এবং বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা।

শুল্কে বড় ধরনের ছাড়
দুই দেশ একমত হয়েছে-চীন ও যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শুল্ক ১১৫ শতাংশ হারে কমাবে। এর আওতায়:
যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত ১৪৫% শুল্ক কমিয়ে ৩০% করবে
চীন মার্কিন পণ্যের ওপর ১২৫% শুল্ক কমিয়ে ১০% এ আনবে
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে প্রথম দফায় ৯০ দিনের জন্য।

আলোচনার পেছনে রাজনৈতিক বাস্তবতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে চীনের ওপর আরোপিত শুল্কের মাধ্যমে মার্কিন শিল্প সুরক্ষার কৌশল নেয় হোয়াইট হাউস। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চীনও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ও প্রযুক্তিপণ্যের ওপর কড়া শুল্ক আরোপ করে। এতে দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যে সম্পর্কের তীব্র অবনতি ঘটে এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও মন্দার আশঙ্কা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত কৌশল পাল্টাচ্ছে।

শর্তে শর্তে সাময়িক শান্তি
শুধু বাণিজ্যেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনায় জুড়ে দিয়েছে নতুন একটি শর্ত-চীনের ‘ফেন্টানিল’ রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন,
“ফেন্টানিল একটি বৈশ্বিক হুমকি। আমরা আশা করি চীন এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেবে। এই ৯০ দিনে তাদের সদিচ্ছা প্রমাণিত হতে হবে।”

বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে দেখা যায় ইতিবাচক সাড়া:
হংকংয়ের হ্যাং সেং ইনডেক্স ৩% বেড়েছে
সাংহাই কম্পোজিট ০.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে
ইউরোপীয় বাজারে সকালের লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
মার্কিন বাজারে ২-৩% বৃদ্ধির পূর্বাভাস
বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা এই সিদ্ধান্তকে ‘শান্তির বার্তা’ হিসেবে দেখছে।

কি বলছেন বিশ্লেষকরা?
বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ জ্যাক লিমের মতে,
“এটা পুরোপুরি সমাধান নয়, তবে এটি সংকট ব্যবস্থাপনার একটি ইতিবাচক সূচনা। সবচেয়ে বড় কথা হলো-দুই দেশ এখন কথা বলছে এবং শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে একমত হয়েছে।”

পরবর্তী ধাপ কী?
৯০ দিনের এই সমঝোতা স্থায়ী সমাধানে পরিণত হবে কিনা, তা নির্ভর করছে দুই পক্ষের ভবিষ্যৎ আচরণ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। তবে এই মুহূর্তে, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এটি একটি স্বস্তির নিঃশ্বাস।
চুক্তির ভাষা এখনো কূটনৈতিক, কিন্তু বাজার বলছে-এটা এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্ত।


এ জাতীয় আরো খবর