ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে শুরু হওয়া পরোক্ষ আলোচনা শেষ হলো মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির দ্বাররক্ষক ওমানে। কিন্তু দুই দেশের কঠোর অবস্থানে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তেহরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অধিকার থেকে একচুলও সরে আসবে না তারা।
রোববার মাসকটে আয়োজিত এই বৈঠক ছিল চতুর্থ দফার আলোচনা। ইরানের হয়ে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি, আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে ওমান।
'কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয়'-দুই পক্ষের মূল্যায়ন
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, “আলোচনাগুলো কঠিন হলেও একে অপরের অবস্থান বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।” তিনি জানান, পরবর্তী বৈঠকের সময় ও স্থান জানিয়ে দেবে ওমান।
যুক্তরাষ্ট্রের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। তিনি এটিকে "আশাব্যঞ্জক শুরু" বলেও অভিহিত করেন, যদিও মূল বিরোধ এখনো বহাল।
যুক্তরাষ্ট্র চায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ, ইরান বলছে-অধিকার ছাড় নয়
ওয়াশিংটনের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট-ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং নাতানজ, ফরদো ও ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো নিষ্ক্রিয় করতে হবে।
উত্তরে আরাকচি বলেন, “আমরা আমাদের পারমাণবিক অধিকার নিয়ে কোনো আপস করব না। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আমাদের সার্বভৌম অধিকার এবং এটি বাতিলযোগ্য নয়।”
তবে ইরান আংশিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি কৌশলগত পজিশন যা সময়ক্ষেপণ এবং কূটনৈতিক চাপ মোকাবেলার জন্য তৈরি।
ট্রাম্পের ছায়া: ফের 'সর্বোচ্চ চাপ' কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র
আলোচনার এই পর্যায় এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ফিরে এসেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কূটনীতি ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপই একমাত্র উপায়।
২০১৮ সালে তিনিই ইরান চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন এবং নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইরান ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা আন্তর্জাতিক মাপকাঠিতে অস্ত্র সক্ষমতা অর্জনের দিকেই ইঙ্গিত দেয়।
চুক্তিতে ফেরার শর্ত: নিশ্চয়তা চায় তেহরান
তেহরান বলেছে, ভবিষ্যতে ট্রাম্পের মতো কেউ যেন আবার চুক্তি বাতিল করতে না পারেন-এই নিশ্চয়তা ছাড়া তারা কোনো নতুন চুক্তিতে যাবে না।
এছাড়াও, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও তারা কোনো আলোচনায় বসবে না বলে জানিয়েছে।
সংকটের পরিসীমা বাড়ছে, উত্তরণের পথ কঠিন
বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনার ধারাবাহিকতা থাকা ভালো খবর হলেও, বাস্তবিক অগ্রগতির জন্য দুই পক্ষের ‘লাল দাগ’ সরানো জরুরি। বর্তমান বাস্তবতায় তা কঠিন, বিশেষত ট্রাম্পের ফিরে আসা এবং ইরানের রাজনৈতিক দৃঢ়তার প্রেক্ষাপটে।
পরবর্তী বৈঠকের সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে ওমান আবারও শান্তির সেতুবন্ধনের ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।