মহেশখালী কক্সবাজার ৫ আগস্ট ২০২৩
দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এর ৭৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে নবাগত মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিকী মারমা এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-
কক্সবাজার-২,মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক।
মহেশখালী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ভবরঞ্জন দাস এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন-
মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএফ এম শামীম,বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছালেহ আহামদ,কুতুবজোম ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট শেখ কামাল।
উপস্থিত ছিলেন-
সহকারী বন সংরক্ষক ককসবাজার শেখ আবুল কালাম আযাদ, উপজেলা সমবায় অফিসার গোলাম মাসুদ কুতুবী, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ব্যবস্থাপক সানা উল্লাহ, মহেশখালী ফারার সার্ভিস এর ষ্টেশন অফিসার পুলক কান্তি সরকার। বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
৫ আগস্ট ১৯৪৯ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শেখ কামাল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ঐতিহাসিক বাসভবনে আক্রমণ করার ঠিক আগে আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে চলে যান।
তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশন্ড লাভ করেন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেন। তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বিপথগামী একদল সেনা কর্মকর্তার নির্মম বুলেটে মাত্র ২৬ বছর বয়সে পিতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সপরিবারে নিহত হন।
সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে কালে সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক বলেন-
শেখ কামাল একাধারে যেমন দেশের সেরা ক্রীড়া সংগঠক এবং ক্রীড়াবিদ ছিলেন, তেমনি ছাত্র হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মনেপ্রাণে দেশীয় সংস্কৃতি লালন এবং চর্চা করতেন। খেলাধুলা, সংগীত, অভিনয়, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
আগত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের শেখ কামালের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকীর দিনে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
এর আগে সকালে উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবদনে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তার মধ্যে শেখ কামালের জীবনী নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা,উপকূলীয় বন বিভাগ,মহেশখালী রেঞ্জ অফিসের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপন ও বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।