বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

স্মরণ-অভিনেত্রি লিলি চৌধুরী

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৩-০১ ২০:১৯:৫৫

লিলি চৌধুরী ছিলেন বেতার, মঞ্চ ও টেলিভিশনের একসময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রি। স্বামী শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
জন্ম ১৯২৮ সালের ৩১ আগস্ট বৃহত্তর ময়মনসিংহের টাঙ্গাইল জেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের মাতুলালয়ে। পৈত্রিক পদবিতে তখন তাঁর নাম রাখা হয় লিলি মির্জা।
বাবা নূর মোহাম্মদ মির্জার ছিল বদলির চাকরি। সেই সুবাদে তৃতীয় শ্রেনী থেকেই হোস্টেল জীবন শুরু হয় তাঁর। কলকাতায় বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে তাঁকে ভর্তি করে দেন তাঁর বাবা।
লিলি যখন সপ্তম শ্রেণিতে, রবীন্দ্রনাথের নাটকে তাঁর প্রথম অভিনয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে দিল্লিতে বাবা মায়ের কাছে চলে যান লিলি, ভর্তি হন ইন্দ্রপ্রস্থ গার্লস হাই স্কুলে। স্কুল বদলালেও অভিনয় ঠিকেই চলে।
দুই বছর পর আবার কলকাতায় ফিরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল থেকেই প্রবেশিকা শেষ করেন লিলি। এরপর লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে পড়ার সময় দুই বছর হোস্টেল জীবনেও কলেজের নাটকে নিয়মিত অভিনয় করতে থাকেন।
এর মধ্যেই আসে দেশভাগের সেই অস্থির সময়, কলকাতা জুড়ে দাঙ্গা। ১৯৪৮ এ নূর মোহাম্মদ মির্জা ঢাকায় চলে আসেন। আর লিলি মির্জার পরিচয় হয় মুনীর চৌধুরীর সঙ্গে।
লিলি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী।
বাম রাজনীতিতে জড়িত মুনীর ১৯৪৯ সালের মার্চে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। পাঁচ মাস পর মুনীর মুক্তি পেলে তাঁরা বিয়ে করে ফেলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় ১৯৫২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আবার গ্রেপ্তার হন মুনীর চৌধুরী। সেবার মুক্তি মেলে দুই বছর পর। এর মধ্যেই কারাগারে রচিত হয় ‘কবর’ নাটকটি।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের শেষ ভাগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের এ দেশীয় দোসরদের সহায়তায় শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ হাজারো বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে। ১৪ ডিসেম্বর আলবদর বাহিনী এসে ধরে নিয়ে যায় মুনীর চৌধুরীকে। স্বামীর সঙ্গে সেই তাঁর শেষ দেখা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা লিলিকে সদ্য স্বাধীন দেশে কঠিন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। চাকরির পাশাপাশি অভিনয় করে যান বেতার, মঞ্চ আর টেলিভিশনে।
মুনীর চৌধুরীর শুরু করা টেনেসি উইলিয়ামসের ‘স্ট্রিট কার নেমড ডিজায়ার’ নাটকের অসমাপ্ত অনুবাদের কাজ লিলিই শেষ করেন।
স্বামীর সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ আর দুজনের লেখা ডায়েরির সঙ্কলন প্রকাশিত হয়েছে ‘দিনপঞ্জি মনপঞ্জি ডাকঘর’ শিরোনামে।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নাট্যকার-নাট্যশিল্পী সংসদ, টেলিভিশন নাট্যশিল্পী নাট্যকার সংসদ ও বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদের সম্মাননা পেয়েছেন লিলি চৌধুরী।
প্রয়াত চলচ্চিত্রকার মিশুক মুনীর তাঁর বড় ছেলে ও ছোট ছেলে আশিফ মুনীর।
১ মার্চ ২০২১ সালে বিদুষী নারী লিলি চৌধুরীর জীবনাবসান ঘটে। শ্রদ্ধাঞ্জলি।

 


এ জাতীয় আরো খবর