শততম দিনে পা দিল ফিলিস্তিনির অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসন। ইসরাইলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘ সংঘাতের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এবং ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবারের সংঘাতকে।
গাজা ভূখন্ডে টানা প্রায় ১০০ দিন ধরে চলা ইসরাইলি হামলায় ইতিমধ্যে ২৩ হাজারে ৭০৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন ৩৪৭ জন।
ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচার ও বর্বর হামলার নিহতদের ৭০ ভাগের বেশিই নারী ও শিশু। এছাড়া গাজাতে এ হামলায় আহত হয়েছে ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। খবর আল জাজিরা।
আল জাজিরা জানিয়েছে গত ১০০দিন ধরে চলা ইসরাইলি আগ্রাসনে অবরুদ্ধ ভূখন্ডটিতে আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে ৪৫ থেকে ৫৬ শতাংশ। এছাড়া গাজায় স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৯ শতাংশের বেশি। ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে আংশিকভাবে কাজ করছে ১৫টি।
আল জাজিরা আরও জানিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সহিংসতায় বিপর্যয়কর ক্ষুধা ও অনাহারের সম্মুখীন হয়েছে ৫ লাখ ৭৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকরা।
ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা ও স্থল অভিযানে গাজা থেকে ইতিমধ্যে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছে ১৮ লাখ ফিলিস্তিনি।
এদিকে আল জাজিরা আরও জানিয়েছে চলমান যুদ্ধে অবরুদ্ধ ভূখন্ডে ইসরাইলি বাহিনী কর্তৃক ২৯,০০০ বোমা, গোলাবারুদ এবং শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। যেখানে ইসরাইলের দিকে রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে ১৪ হাজার।
এদিকে মৃত্যু, ক্ষুধা, অনাহার, রোগ ছড়িয়ে পড়ায় চরম মানবিক অবস্থা তৈরি হয়েছে ফিলিস্তিনির উপত্যকাটিতে। গাজার এমন মানবিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ব। বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থি ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজায় চলমান যুদ্ধ ১০০ দিনের মাইলফলক অতিক্রম এবং ভূখটিতে ইসরাইলের আক্রমণ বন্ধের দাবিতে বিশ্বজুয়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন।
নিউইয়র্ক, লন্ডন, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, প্যারিস, ভিয়েনা, বার্লিন, আম্মান এবং ওয়াশিংটন ডিসি-সহ বিশ্বের বহু দেশের রাজধানীতে বিশাল সমাবেশ হয়েছে। ফিলিস্তিন স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তায় নামতে থাকব, চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখব বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।