গাজায় শরণার্থী শিবিরে হামলা, নিহত ৭০
- সকালের আলো প্রতিবেদক
-
২০২৩-১২-২৫ ১৫:২২:২৯
- Print
ইসরাইলি বিমান হামলায় গাজা ভূখন্ডে আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরে কমপক্ষে ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইসরাইলি এই বর্বর হামলাকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। সোমবার (২৫ শে ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। হামলাটি এমন সময় করা হলো যখন বিশ্ব বড়দিন উদযাপনে ব্যস্ত।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা রোববার গভীর রাতে বলেছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘আল-মাগাজি ক্যাম্পের জনাকীর্ণ আবাসিক চত্বরে যা সংঘটিত হচ্ছে তা আসলে গণহত্যা।’
আল জাজিরা বলছে, ইসরাইলি বর্বর এই হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে এবং হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়িও ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলার পর সেখানকার মানুষ বেঁচে যাওয়া লোকদের খুঁজে বের করার চেষ্টায় ধ্বংসস্তূপের ভেতরে তল্লাশি করছে।
আল জাজিরার তারেক আবু আজউম দক্ষিণ গাজার রাফাহ থেকে জানিয়েছেন, আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরটি গাজা উপত্যকার মাঝখানে সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে একটি। তিনি বলেন, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এর আগে গাজার ফিলিস্তিনিদের যে জায়গাগুলো থেকে সরে যেতে বলেছিল তার মধ্যে এটি অন্যতম। হামলা চালিয়ে এখন ক্যাম্পটিকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া’ হয়েছে।
তারেক আবু আজউম আরও বলেন, ‘ হতাহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক বলে তথ্য রয়েছে। এই গণহত্যার সময় ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে ক্যাম্পের আশপাশের এলাকাগুলো তীব্র ইসরাইলি গোলাবর্ষণের শিকার হয়েছে।
এদিকে আল-মাগাজি ক্যাম্পে বিমান হামলাকে ‘ভয়াবহ গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছে হামাস। একইসঙ্গে এটিকে ‘নতুন যুদ্ধাপরাধ’ বলেও অভিহিত করেছে এই গোষ্ঠীটি।অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্রের কার্যালয় বলছে, তারা হামলার রিপোর্ট খতিয়ে দেখছে।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায়। এরপর হামাসের হামলার জবাবে ৭ অক্টোবরই গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এর পর আড়াই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর বেশিরভাগ নারী ও শিশু। উদ্বাস্তু হয়েছে গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ১৮ লাখের বেশি।এ পরিস্থিতিতে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।