মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬

হরমুজ উত্তেজনায় ইরানে মার্কিন হামলা,বিমান প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাসহ বহু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৭-১৩ ১০:২৭:৩২
ছবি: সংগৃহীত।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালিয়ে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, অভিযানটিতে যুদ্ধবিমান, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং আত্মঘাতী আকাশ ও সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং হরমুজ প্রণালিতে হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনী আরও জানায়, পরিকল্পিত এই সামরিক অভিযান আপাতত শেষ হয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, হামলার সময় দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাস এলাকায় অন্তত দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগবিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভ্যালিওল্লাহ হায়াতির বরাত দিয়ে ইরনা জানায়, মার্কিন হামলায় একজন নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অনুমোদিত নৌপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ শুরু হয়। এতে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং মধ্যস্থতাকারীরা উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত নিরসনের পথ তৈরি করাই ওই অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনায় সেই উদ্যোগ এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ


এ জাতীয় আরো খবর