লিওনেল মেসির নামের পাশে রেকর্ডের অভাব ছিল না। তবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে একটি হ্যাটট্রিক দীর্ঘদিন ধরেই অধরা ছিল আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল করে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের তালিকায় আরও উঁচুতে উঠে গেলেন মেসি।
ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। তৃতীয় গোলটি করার মধ্য দিয়ে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৬-তে, যা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যার সমান।
দ্বিতীয় গোলের পর থেকেই হ্যাটট্রিকের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন মেসি। ৬৬ মিনিটে নিজের চেনা ভঙ্গিতে কয়েকজন প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে শট নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেবার আলজেরিয়ার গোলরক্ষক দুর্দান্ত দক্ষতায় বল প্রতিহত করেন।
তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়তে পারেনি আলজেরিয়া। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে আর্জেন্টিনার আরেকটি দৃষ্টিনন্দন আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন মেসি নিজেই। মাঝমাঠ থেকে বল এগিয়ে নিয়ে বাঁ দিকের ফাঁকা জায়গায় থাকা নিকো গঞ্জালেসকে পাস দেন তিনি। এরপর দ্রুত প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে জায়গা তৈরি করেন। গঞ্জালেসের ফেরত দেওয়া বল প্রথম স্পর্শেই নিয়ন্ত্রণে এনে রক্ষণভাগকে পরাস্ত করেন মেসি। পরের মুহূর্তেই নিখুঁত শটে বল পাঠান জালের ভেতর।
গোলের সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে কানসাসের চিলড্রেনস মারসি পার্ক। সতীর্থদের অভিনন্দনের পাশাপাশি গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় মেসি বন্দনা।
হ্যাটট্রিক পূর্ণ হওয়ার তিন মিনিট পর তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ৭৯তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক,আর তার জায়গায় নামেন তরুণ মিডফিল্ডার নিকো পাজ।
মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের প্রতিক্রিয়াই যেন বলে দিচ্ছিল রাতটি কতটা বিশেষ। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো সমর্থক দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে সম্মান জানান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকাকে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম হ্যাটট্রিক,সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় কিংবদন্তি ক্লোসের রেকর্ড স্পর্শ এবং দলের জয়ে মুখ্য ভূমিকা-সব মিলিয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
কী-ওয়ার্ডস:লিওনেল মেসি,বিশ্বকাপ রেকর্ড,হ্যাটট্রিক ইতিহাস