নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় জালিয়াতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মো: নিজাম উদ্দিন(২৮)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার(১৬ জুন) সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী মো: নিজাম উদ্দিন সেনবাগের বিষ্ণুপুর ফতেহ আলী বাড়ীর সাহাব উদ্দিনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ব্যক্তির সঙ্গে শিরিন সুলতানার যোগাযোগ হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জননী হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে নানা ধরনের হয়রানি ও হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির একটি কক্ষে তার স্ত্রীর নামে একটি তালাকের এফিডেভিট এবং ২০২৫ সালের ৩ মার্চ একই নারীর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিয়ের এফিডেভিট তৈরি করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল দেশে এসে তিনি এসব নথির বিষয়ে জানতে পারেন।
জাহাঙ্গীর আলম আদালতে দাবি করেন, যেসব তারিখে তালাক ও বিয়ের এফিডেভিট সম্পাদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সে সময় তার স্ত্রী ইতালিতে তার সঙ্গেই অবস্থান করছিলেন। পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্রে এ তথ্যের প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, স্ত্রীর পূর্বে ব্যবহৃত স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তা ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জাল দলিল তৈরি করা হয়েছে।
মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম, আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী শিরিন সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে ইতালিতে বসবাস করছেন এবং তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। অথচ তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও প্রতারণার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রীর নামে জাল তালাকনামা এবং পরবর্তীতে অন্য একজনের সঙ্গে বিয়ের এফিডেভিট তৈরি করা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুর রহিম সরকার বলেন আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মো: নিজাম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে নোয়াখালী বিচারিক আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আসামীকে আদালতে হাজির করার পর, শুনানী শেষে আসামি নিজাম উদ্দিনের জামিন না মন্জুর করে জেল হাজতে প্রেরনের আদেশ দেন।এসময় বাদীর পক্ষে শুনানী করেন এডভোকেট হাবিবুর রহমান, এডভোকেট হাফিজুর রহমান ও এডভোকেট তাজ হোসেন সোহেল।আসামী পক্ষে শুনানী করেন এডভোকেট মোনাকেব বাহার।