সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

চীন-ইরান ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির জোর গুঞ্জন, ইসরাইলে মার্কিন এফ-২২ মোতায়েন

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০২-২৬ ০৩:৫৮:২৮
ছবি: সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে তেহরান ও বেইজিংয়ের মধ্যে একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরান চীনের তৈরি সিএম-৩০২ (C-302) সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইল-ইরান সংক্ষিপ্ত সংঘাতের পর গত গ্রীষ্মে ইরানের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেইজিং সফর করেন এবং আলোচনায় গতি আসে। সিএম-৩০২ প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে যেতে পারে, যা আধুনিক রাডার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে ইরান উপকূলের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln এবং USS Gerald R. Ford ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ সক্ষমতা অর্জন করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে এটি জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের প্রশ্নও তুলতে পারে। তবে ইরান এটিকে নিজেদের সার্বভৌম নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা বারবার উল্লেখ করেছেন।

ইসরাইলে এফ-২২ মোতায়েন
এদিকে, উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে প্রায় এক ডজন F-22 Raptor স্টিলথ ফাইটার জেট অবতরণ করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা এবং শত্রুপক্ষের রাডার ফাঁকি দিয়ে নির্ভুল হামলায় সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে আলোচনার অগ্রগতি থমকে যাওয়ায় ওয়াশিংটন এই সামরিক বার্তা দিতে চেয়েছে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজন হলে এই স্টিলথ জেটগুলো সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করতে তাৎক্ষণিক ভূমিকা রাখতে পারবে।

কূটনৈতিক জানালা কি খোলা?
তবে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ এখনও রয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন-ইরান সম্ভাব্য সামরিক চুক্তি, ইসরাইলে মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন এবং কূটনৈতিক তৎপরতা-সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। যুদ্ধ নাকি সমঝোতা-পরবর্তী কয়েক সপ্তাহেই তার দিকনির্দেশ স্পষ্ট হতে পারে।

কী-ওয়ার্ডস: ইরান-চীন ক্ষেপণাস্ত্র, সিএম-৩০২ মিসাইল, এফ-২২ মোতায়েন, মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা


এ জাতীয় আরো খবর