ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের আহ্বান উঠলেও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি অস্ট্রেলিয়া সরকার।
আগামী সোমবার থেকে চার দিনের সফরে সিডনি সফর করার কথা রয়েছে হারজগের। বন্ডাই বিচ এলাকায় ইহুদি-বিরোধী এক সহিংস ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করাই সফরের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে ক্যানবেরা। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর হানুকা উৎসবকে ঘিরে ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হন, যা অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার একটি।
তবে এই সফরের বিরোধিতা করে সরব হয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী ক্রিস সিদোতি। তিনি প্রকাশ্যে হারজগকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২০২৫ সালে জাতিসংঘ-গঠিত এক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে হারজগের বক্তব্যকে ‘গণহত্যায় উসকানি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ‘সমগ্র ফিলিস্তিনি জাতি’কে দায়ী করে দেওয়া মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল।
এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিদোতি বলেন, হারজগকে আমন্ত্রণ জানানো অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর একটি ভুল সিদ্ধান্ত, যা এখনও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তার মতে, আমন্ত্রণ বাতিল করা না হলে অন্তত প্রেসিডেন্টের আগমনের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ইসরাইল সরকার অবশ্য জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিকৃত এবং ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিশন বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে বলেন, এই সফরের উদ্দেশ্য কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং বন্ডাই হামলার শিকারদের স্মরণ করা এবং অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো। তিনি বলেন, এটি ছিল একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী ও ইহুদি-বিরোধী হামলা, এবং এই প্রেক্ষাপটেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এদিকে, হারজগের সফরের প্রতিবাদে সিডনিসহ দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন। তবে বন্ডাই হামলার পর নতুন আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করে পুলিশ এসব বিক্ষোভের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা নিয়ে নাগরিক স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এর পাশাপাশি নিরাপত্তা উদ্বেগও বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, সিডনির ১৯ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে অনলাইনে এক বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। যদিও পুলিশ নিশ্চিত করেনি, ওই হুমকির লক্ষ্য হারজগ ছিলেন কি না।
সব মিলিয়ে, স্মরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া হারজগের এই সফর এখন অস্ট্রেলিয়ার জন্য কূটনৈতিক ভারসাম্য, মানবাধিকার প্রশ্ন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা—এই তিনটি সংবেদনশীল ইস্যুর সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছে।
কী-ওয়ার্ডসঃহারজগ সফর,অস্ট্রেলিয়া ইসরাইল,মানবাধিকার বিতর্ক