শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬

কঠোর শাস্তি ও আধুনিক পরিকল্পনায় নতুন যুগে রাজউক: ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬’জারি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • ২০২৬-০১-২৪ ১০:২০:৪৮
ফাইল ছবি

ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকাকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও দুর্যোগ সহনশীল নগরে রূপ দিতে সরকার জারি করেছে ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬’। এই নতুন আইনের মাধ্যমে অপরিকল্পিত নগরায়ন, অবৈধ ভবন নির্মাণ ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রহিত করা হয়েছে সাত দশকের পুরোনো ‘টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৫৩’।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গত সোমবার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে ১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির জারির মাধ্যমে অধ্যাদেশটি কার্যকর হয় বলে জানিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার ড. মো. রেজাউল করিম।
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে কৌশলগত পরিকল্পনা বা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানা এবং প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে জলাশয়, নদ-নদী ও নিচু জমি ভরাটের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রাকৃতিক জলাধারের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করলে প্রথমবার দুই বছরের কারাদণ্ড এবং পুনরাবৃত্তি হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
এই অধ্যাদেশে শুধু সাধারণ নাগরিক নয়, রাজউকের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ নির্মাণে সহায়তা করলে বা জেনেও নিরব থাকলে তার জন্যও কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন আইনে ঢাকা মহানগরী ছাড়াও সাভার, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের রাজউক নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব এলাকায় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসরণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
অধ্যাদেশে অগৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা উপদেষ্টাকে সভাপতি করে একটি শক্তিশালী বোর্ড গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এতে বিশেষজ্ঞ স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আধুনিক নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘ভূমি পুনর্বিন্যাস’ ও ‘উন্নয়ন স্বত্ব বিনিময়’-এর মতো নতুন ধারণা যুক্ত করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ এবং দরিদ্র ও ভূমিহীনদের আবাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
এ ছাড়া রাজউকের সব সেবা ডিজিটালাইজড করা এবং বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে ওয়েবসাইটে প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, রাজধানী ও আশপাশের এলাকাকে বাসযোগ্য, নিরাপদ ও টেকসই নগরে রূপ দিতেই এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে।

কীওয়ার্ডস:রাজউক অধ্যাদেশ,অপরিকল্পিত নগরায়ন,জলাশয় সুরক্ষা


এ জাতীয় আরো খবর