সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, বছরজুড়ে অন্তত ২০৪৭ জন নারী ও কন্যা শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরে ৮২৮ জন ধর্ষণের শিকার হন, যার মধ্যে ৪৭৪ জনই ছিল ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। এ ছাড়া ১৭৯ জন নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে অন্তত ২৮ জনকে। এসব সহিংস ঘটনার পর মানসিক ও সামাজিক চাপে আত্মহত্যা করেছেন ১০ জন নারী।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, ৪১৪ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ২৩৬ জন শিশু। যৌতুক সংক্রান্ত সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩৫ জন এবং আহত হয়েছেন ৩২ জন। পারিবারিক সহিংসতায় নিহত ও আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮৩ জনে, যেখানে আত্মহত্যার ঘটনা ১৯৪টি।
শিশু নির্যাতনের চিত্রও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছে এইচআরএসএস। ২০২৫ সালে ১৩৭১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৮৮ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং ১০৮৩ জন বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও মাজারকেন্দ্রিক সহিংসতার প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত ২৮টি হামলায় একজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে ৬টি মন্দির, ৩৭টি প্রতিমা ও ৩৮টি বসতবাড়ি। একই সঙ্গে সারাদেশে ৫৬টির বেশি মাজারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় একজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
শ্রমিক নির্যাতনের ক্ষেত্রেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে ৩৫৯টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৯৬ জন নিহত ও ১০২১ জন আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাবে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৬৮ জন শ্রমিক। পাশাপাশি গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪ জন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৮ জন।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি মব সহিংসতা, হেফাজতে মৃত্যু, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষায় সরকার, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
কীওয়ার্ড:নারী নির্যাতন,শিশু অধিকার,মানবাধিকার প্রতিবেদন