সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমাতে ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে বড় প্রকল্প অনুমোদন

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৫-১২-২৩ ২১:৪৮:৩৯
ছবি: সংগৃহীত।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে বড় ধরনের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় নেওয়া এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পক্ষে বাস্তবায়ন করবে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড। প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পতেঙ্গা এলাকায়।
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৬৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২১ হাজার ২৭৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা সরকারি ঋণ এবং ১৪ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ইআরএলের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে নভেম্বর ২০৩০ পর্যন্ত।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন বাড়বে এবং পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের দীর্ঘদিনের উচ্চ নির্ভরতা কমে আসবে।
প্রকল্পের আওতায় সাইট প্রস্তুতি, বিস্তারিত প্রকৌশল নকশা, ক্রয় ও নির্মাণসহ সিভিল ও মেকানিক্যাল কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০টি প্রসেসিং ইউনিট এবং ১৮টি ইউটিলিটি ও অফ-সাইট ইউনিট স্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি থেকে গ্যাস সংযোগ, ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অফিস সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের বর্তমান অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারে। বাকি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে গিয়ে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে।
ইউরো-৫ মানদণ্ড চালুর ফলে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মান সংক্রান্ত শর্ত কঠোর হওয়ায় প্রস্তাবিত আধুনিকায়িত রিফাইনারিতে ইউরো-৫ মানের পরিবেশবান্ধব গ্যাসোলিন ও ডিজেল উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে উৎপাদিত ডিজেল, মোটর স্পিরিট ও অকটেনও ইউরো-৫ মানে উন্নীত করা হবে।
এরই মধ্যে বিপিসির ডাবল পাইপলাইনসহ সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বছরে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এতে সম্প্রসারিত রিফাইনারির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সম্ভব হবে এবং দেশের মোট পেট্রোলিয়াম চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পূরণ করা যাবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কীওয়ার্ডসঃইস্টার্ন রিফাইনারি,জ্বালানি নিরাপত্তা,ইউরো-৫ জ্বালানি


এ জাতীয় আরো খবর