ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমা চাওয়ার আবেদন করার পর প্রথমবার আদালতে হাজির হয়েছেন। সোমবার সকালে তিনি তেলআবিবের একটি আদালতে উপস্থিত হলে দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, ক্ষমা আবেদন ও আদালতে উপস্থিতির বিষয়টি এখন ইসরায়েলের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
নেতানিয়াহুর ক্ষমা চাওয়া নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। বিরোধী দলগুলো বলছে, তিনি দোষ স্বীকার না করেই ক্ষমা চাইছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি, প্রয়োজনে রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণের শর্তে ক্ষমা বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে কিছু রাজনীতিবিদ মনে করছেন, ক্ষমা প্রক্রিয়ায় যেতে হলে প্রথমে ২০২৬ সালের আগেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট জানান, ইসরায়েলের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে হলে নেতানিয়াহুর স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোই উত্তম পথ। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত করা যেতে পারে। সর্বশেষ জরিপেও দেখা গেছে, নেতানিয়াহু পদত্যাগ করলে পরবর্তী সরকারের সম্ভাব্য প্রধান হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন বেনেট।
২০১৯ সালে ঘুষ, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০২০ সালে দীর্ঘ তদন্ত শেষে তার বিচার শুরু হয়, যদিও নেতানিয়াহু শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবীরা বলছেন, মামলা শেষ হলে তিনি বেকসুর খালাস পাবেন। তাদের দাবি, ঘনঘন আদালতে হাজিরা তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিচ্ছে, তাই রাষ্ট্রের স্বার্থে তাকে ক্ষমা দেওয়া উচিত। তবে ইসরায়েলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিচার চলাকালে ক্ষমা দেওয়ার নজির নেই।
সোমবার আদালতের বাইরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী নেতানিয়াহুকে কারাগারে পাঠানোর দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ করেন। অনেকে কমলা রঙের কারাগারের পোশাক পরে প্রতীকী বিক্ষোভে অংশ নেন। এ ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হারজগ জানিয়েছেন, ক্ষমা আবেদন ‘খুব সতর্কতার সঙ্গে’ বিবেচনা করা হবে এবং রাষ্ট্র ও সমাজের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ইসরায়েলে নেতানিয়াহু ইস্যুতে বাড়তে থাকা বিভাজন দেশটির আগামী রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
কীওয়ার্ডস: নেতানিয়াহু, ইসরায়েল রাজনীতি, আদালত