মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই স্থলপথে ভেনেজুয়েলায় মাদক পাচার রোধে উল্লেখযোগ্য অভিযান শুরু করবে। কারাকাস–ওয়াশিংটন সম্পর্কের উত্তেজনা চরমে থাকা অবস্থায় এই ঘোষণা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শুক্রবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায় বিমানবাহী রণতরী, স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং হাজারো সেনা মোতায়েন করেছে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় তথাকথিত মাদকবাহী নৌকায় মার্কিন বাহিনীর একাধিক হামলায় ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এসব অভিযানকে অঞ্চলটির অনেক আইন বিশেষজ্ঞ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করছেন।
থ্যাংকসগিভিং উপলক্ষে সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আপনি-ই আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষার মেরুদণ্ড। সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার মাদক চক্রকে থামাতে আপনারা যে ভূমিকা রেখেছেন, তা নজিরবিহীন। তিনি আরও দাবি করেন, সমুদ্রপথে প্রায় ৮৫ শতাংশ মাদক প্রবাহ বন্ধ করা গেছে এবং এবার স্থলপথেও অভিযান শুরু হবে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় ২০টির বেশি হামলা চালিয়েছে, যাতে অন্তত ৮৩ জন নিহত হয়েছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনো প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়নি যে লক্ষ্যবস্তু করা নৌযানগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। স্থানীয় নেতাদের দাবি, নিহতদের অনেকেই পেশাদার জেলে বা সাধারণ নৌচালক।
ট্রাম্প আগেই ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং বারবার বলেছেন, মাদুরো সরকার মাদক পাচারে জড়িত। এর জবাবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেন, ১৭ সপ্তাহ ধরে বিদেশি শক্তি মিথ্যা অভিযোগ তুলে অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ ভয় পায় না এবং তারা তাদের ভূমি, আকাশ ও সমুদ্র রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ।
কীওয়ার্ডস:
মাদকবিরোধী অভিযান
ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র
ট্রাম্প ঘোষণা