বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন বিজ্ঞানী ও ডিএনএ’র গঠন উন্মোচনের অন্যতম আবিষ্কারক জেমস ওয়াটসন আর নেই। ৯৭ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার (৮ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে ১৯৫৩ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিকের সঙ্গে মিলে ওয়াটসন আবিষ্কার করেছিলেন ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স বা দ্বি-হেলিক্স গঠন। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আধুনিক আণবিক জীববিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে দেয় এবং পরবর্তীতে জেনেটিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
ওয়াটসনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরি, যেখানে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা পরিচালনা করেছিলেন। ১৯৬২ সালে ওয়াটসন, ফ্রান্সিস ক্রিক ও মরিস উইলকিনস যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ডিএনএ’র গঠন আবিষ্কারের জন্য।
১৯২৮ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে জন্ম নেওয়া ওয়াটসন ছিলেন এক প্রতিভাবান শিশু। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোতে। পরবর্তীতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় ফ্রান্সিস ক্রিকের। সেখানেই শুরু হয় তাদের যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা, যা বিজ্ঞান জগতে এক স্থায়ী পরিবর্তন এনে দেয়।
পরবর্তীতে ওয়াটসন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৮ সালে কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বের শীর্ষ গবেষণা কেন্দ্রে উন্নীত করেন।
তবে জীবনের শেষদিকে বিতর্কও পিছু ছাড়েনি এই বিজ্ঞানীর। বর্ণ ও লিঙ্গ নিয়ে তার একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তিনি সমালোচিত হন। এসব মন্তব্যের জেরে ২০০৭ সালে তিনি ল্যাবরেটরির চ্যান্সেলর পদ হারান এবং ২০১৯ সালে তার সব সম্মানসূচক উপাধিও বাতিল করা হয়।
২০১৪ সালে ওয়াটসন তার নোবেল পদক নিলামে বিক্রি করেন। রুশ ধনকুবের আলিশার উসমানভ সেটি ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারে ক্রয় করেন এবং পরে মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেটি ওয়াটসনের কাছে ফিরিয়ে দেন।
বিজ্ঞানে তার অবদান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, জেমস ওয়াটসনের ডিএনএ গবেষণা মানবজাতির জিনগত ইতিহাস বোঝার পথে এক অমলিন অধ্যায় হয়ে থাকবে।
কীওয়ার্ডস:জেমস ওয়াটসন, ডিএনএ আবিষ্কার, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী