গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান চালিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ তাঁর মন্ত্রিসভার ৩৭ জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দেশটির বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলের প্রধান সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর থেকে এই পরোয়ানা জারি করা হয়। খবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
পরোয়ানায় বলা হয়েছে, গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচারে হামলা, আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী জাহাজ আটকে দেওয়া এবং যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের দায়ে নেতানিয়াহু ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ, জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়া’আল জামিরসহ সরকারের একাধিক প্রভাবশালী সদস্য।
তুর্কি কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আওতায় এই পরোয়ানা কার্যকর করতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হবে। তারা আরও জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংগৃহীত প্রমাণ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)-এ পাঠানোরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদন সা’র এক বিবৃতিতে বলেন, “এরদোয়ান বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন। তুরস্কে ভিন্নমত দমন করতে যেভাবে আদালতকে হাতিয়ার বানানো হয়, এটিও তারই সম্প্রসারিত রূপ।”
তিনি আরও দাবি করেন, “এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কোনো আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের রাজনৈতিক প্রচারণারই অংশ।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে তুরস্কের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। একইসঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কীওয়ার্ডস: তুরস্ক পরোয়ানা, নেতানিয়াহু, গাজা গণহত্যা