মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

গাজায় হামলা অব্যাহত, ২৮ দেশের বিবৃতি নিয়ে প্রশ্ন

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৭-২৯ ০০:৫২:৪৪
ছবি সংগৃহিত

গাজায় ইসরাইলি হামলার নৃশংসতা থামছেই না। প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের ২৮টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরাইলকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, বিবৃতির আড়ালে এসব দেশের নীতি স্পষ্টতই দ্বিচারিতার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
যেসব দেশ যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, তারা হলো—অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, সাইপ্রাস, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, গ্রিস, জাপান, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।
বিবৃতি দিলেও এসব দেশের কেউই ইসরাইলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য বন্ধ করেনি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও দেয়নি। বরং বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, আয়ারল্যান্ড ২০২৪ সালে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও ইসরাইল থেকে ৩.৫৮ বিলিয়ন ডলারের চিপস আমদানি করেছে। একইভাবে ইতালি ইসরাইলে ৩.৪৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ আরও অনেক দেশ ইসরাইলের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা কোনো সমাধান নয়। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ—যেমন অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব দেশ সেসব পথে হাঁটেনি।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এসব দেশের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। তারা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও ব্যবসায়িক স্বার্থে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই নীতি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যতদিন না বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হবে, ততদিন ফিলিস্তিনের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর নৈতিক দায়িত্ব শুধু বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

সূত্র: আল-জাজিরা


এ জাতীয় আরো খবর